কলকাতা: রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকে কেটে গিয়েছে এক মাস। (diamond harbour)এই এক মাসে প্রাক্তন রাজ্য সরকার তৃণমূল কংগ্রেসের দুর্নীতির একের পর এক উদাহরণ প্রত্যেকদিন সামনে আসছে। চুরি, কাটমানি, সন্ত্রাস থেকে শুরু করে স্বৈরাচার সর্ব ক্ষেত্রেই পর্দাফাঁস হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের। এই আবহেই ফের একবার চাঞ্চল্য অভিষেক বন্দোপাধ্যায়ের ডায়মন্ডহারবারে। সন্ত্রাসের অভিযোগ তো ছিলই এবার দেখা গেল দুর্নীতি এবং নোংরামির তালিকা থেকে বাদ পড়েনি লাইব্রেরি।
যে জায়গা একসময় এলাকার ছাত্রছাত্রী, পাঠক ও জ্ঞানপিপাসু মানুষের জন্য বইপত্রের ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত ছিল, সেই লাইব্রেরির ভেতর থেকে উদ্ধার হয়েছে পেটি পেটি মদ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে এবং রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে জোরকদমে।
আরও দেখুনঃ লোকসভাতেও ‘আসল তৃণমূল’? দলনেতা হওয়ার জল্পনার মাঝেই বিস্ফোরক পোস্ট কাকলির!
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই লাইব্রেরিটি সাধারণ মানুষের জন্য কার্যত বন্ধ ছিল। এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, লাইব্রেরির দরজা বহুদিন ধরে তালাবন্ধ থাকলেও রাতের বেলায় সেখানে কিছু সন্দেহজনক ব্যক্তির যাতায়াত লক্ষ্য করা যেত। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন উঠছিল। অবশেষে স্থানীয় মানুষজন ও রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্যোগে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
অভিযোগ, লাইব্রেরির ভেতরে ঢুকে দেখা যায় বই রাখার তাকগুলো প্রায় সম্পূর্ণ ফাঁকা। সেখানে বইয়ের পরিবর্তে সারি সারি করে সাজানো রয়েছে মদের বোতলভর্তি কার্টন এবং বড় বড় পেটি। একটি শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের এমন ব্যবহার দেখে হতবাক হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, জ্ঞানচর্চার একটি কেন্দ্রকে বেআইনি মদের গুদামে পরিণত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬ রাতে ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। স্থানীয় মহিলারা এবং বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরা লাইব্রেরির সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদে সামিল হন। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, অবিলম্বে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ডায়মন্ড হারবার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
পুলিশ লাইব্রেরির ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মদের বোতল ও কার্টন উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া মদের পরিমাণ কত, তার সঠিক হিসাব এখনও প্রকাশ্যে না এলেও প্রাথমিকভাবে পুলিশ এটিকে একটি বড়সড় অবৈধ মদ মজুতের ঘটনা হিসেবে দেখছে। উদ্ধার হওয়া সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে লাইব্রেরিটি সাধারণ মানুষের জন্য বন্ধ রেখে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশ সেটির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রেখেছিল। তাদের দাবি, শিক্ষা ও সংস্কৃতির কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের বদলে ওই ভবনকে বেআইনি মদের গুদাম এবং অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল। বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্য, এই ঘটনা শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতারই নয়, বরং সাংস্কৃতিক পরিকাঠামোর অপব্যবহারেরও জ্বলন্ত উদাহরণ।
অন্যদিকে, এই অভিযোগ নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি। ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে। স্থানীয় মানুষও জানতে চাইছেন, কীভাবে একটি লাইব্রেরির মতো প্রতিষ্ঠানের ভেতরে এত বিপুল পরিমাণ মদ মজুত করা হল এবং এতদিন ধরে বিষয়টি প্রশাসনের নজরের বাইরে রইল কীভাবে। এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, বহুদিন ধরেই লাইব্রেরিটি কার্যত অচল অবস্থায় ছিল। শিশু-কিশোরদের পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি করার বদলে সেখানে রহস্যজনক কার্যকলাপ চলছিল বলে তাঁদের সন্দেহ। সেই কারণেই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া মদ কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কারা এই মজুতকরণের সঙ্গে জড়িত, এর পেছনে কোনও আর্থিক চক্র বা রাজনৈতিক প্রভাব রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারীরা স্থানীয়দের বয়ান সংগ্রহের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নথিপত্রও পরীক্ষা করছেন।



















