রাশিয়া আবারও ভারতকে তাদের সবচেয়ে আধুনিক, পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান সুখোই-৫৭ (Sukhoi-57) সরবরাহ করার প্রস্তাব দিয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন যে, তাঁর দেশ শুধু ভারতকে এই ভয়ংকর স্টেলথ যুদ্ধবিমানটি সরবরাহ করতেই প্রস্তুত নয়, বরং ভারতের সহযোগিতায় বিমানটির আরও উন্নয়ন করতেও আগ্রহী।
সেন্ট পিটার্সবার্গ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরাম চলাকালীন সংবাদ সংস্থাগুলোর সাথে কথা বলার সময় পুতিন এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্যটি করেন। তিনি এসইউ-৫৭ এর প্রশংসা করে বলেন, এটি পঞ্চম প্রজন্মের প্রযুক্তি এবং তার মতে, এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা যুদ্ধবিমান।
আমরা আগেও এর প্রস্তাব দিয়েছিলাম, কিন্তু ভারত বলেছিল, ‘আগে নিজেরাই তৈরি করে নিন।’
পুরনো দিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট পুতিন একটি মজার ঘটনা তুলে ধরেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, রাশিয়া অনেক আগেই এই প্রযুক্তি নিয়ে ভারতের সঙ্গে একটি যৌথ প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছিল। পুতিন বলেন, “একটা সময় ছিল যখন আমরা আমাদের ভারতীয় বন্ধুদের এই প্রযুক্তিতে একসঙ্গে কাজ করার প্রস্তাব দিয়েছিলাম।” কিন্তু তারপর আমাদের ভারতীয় বন্ধুরা বলল, “তোমরা আগে এটা নিজেরাই বানিয়ে নাও, তারপর দেখা যাবে, হয়তো পরে যোগ দেব।” তাই আমরা সম্পূর্ণ নিজেরাই এটা বানিয়ে ফেললাম।
পুতিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, আমরা এই বিমানটি ভারতকে হস্তান্তর করতে এবং এই ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। এ ব্যাপারে আমাদের কোনো দ্বিধা বা সীমাবদ্ধতা নেই। আমাদের বায়ু প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
ভারতের জন্য এই সময়টা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
পুতিনের এই প্রস্তাব এমন এক সময়ে এসেছে যখন ভারতীয় বিমান বাহিনীর শক্তি বৃদ্ধির জন্য পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমানের তীব্র প্রয়োজন।
- ভারতের বর্তমানে কোনো কার্যকর স্টেলথ যুদ্ধবিমান নেই।
- অন্যদিকে, প্রতিবেশী পাকিস্তান চিন থেকে অত্যাধুনিক জে-৩৫ (জে-৩৫এই) স্টেলথ যুদ্ধবিমান কেনার জন্য পুরোপুরি পরিকল্পনা করেছে।
- ভারত নিজস্ব পঞ্চম প্রজন্মের বিমান, এএমসিএ (অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কমব্যাট এয়ারক্রাফট) নিয়ে কাজ করছে, কিন্তু এটি সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত হয়ে সেনাবাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হতে অন্তত ৮ থেকে ১০ বছর (২০৩০-এর দশকের মাঝামাঝি) সময় লাগতে পারে।
ভারত যদি রাশিয়ার এই প্রস্তাব গ্রহণ করে, তবে শীঘ্রই বিশ্বের সবচেয়ে উন্নত বিমান প্রযুক্তির নাগাল পেতে পারে। তবে, রাশিয়ার এই প্রস্তাবের বিষয়ে ভারতের অবস্থানের দিকে বিশ্ব তাকিয়ে আছে।




















