ঢাকা: বাংলাদেশে হিন্দুদের উপর অত্যাচার এখন প্রত্যেকদিনের রোজনামচা ফলে দাঁড়িয়েছে (gaibandha)। হাসিনা পরিচালিত আওয়ামী লীগের পতনের পর থেকেই অস্বাভাবিক ভাবে হিন্দুদের উপর অত্যাচার এবং ধর্মীয়ও স্থাপনায় হামলার ঘটনা বেড়েছে। এই আবহেই হিন্দু বিরোধী মৌলবাদীদের চ্যালেঞ্জ ছুড়েছে বাংলাদেশের সনাতনীরা।
রংপুর বিভাগের গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ীতে দেশের সবচেয়ে বড় রামচন্দ্রের মূর্তি নির্মাণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সেখানে বাংলাদেশের বৃহত্তম কৃষ্ণ ও শিবের মূর্তিও রয়েছে বলে বিভিন্ন সমাজ মাধ্যমের পোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে বাক্স ভর্তি উইপোকায় কাটা বিপুল টাকা উদ্ধার
ধর্মীয় স্থাপনাটি গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর (বৃন্দাবনপাড়া) গ্রামে অবস্থিত। স্থানীয়ভাবে এটি ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। বিশাল আয়তনের এই মন্দির কমপ্লেক্স প্রতিষ্ঠা করেছেন এলাকার কৃতি সন্তান শ্রী হরিদাস বাবু। তাঁর উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পটি ধীরে ধীরে দেশের অন্যতম বৃহৎ সনাতন ধর্মীয় স্থাপনায় পরিণত হচ্ছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল এই মন্দিরে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ শ্রীকৃষ্ণের বিগ্রহ ইতিমধ্যেই স্থাপন ও উদ্বোধন করা হয়েছে। প্রায় ৫০ ফুট উচ্চতার এই বিশাল কৃষ্ণ মূর্তিটি দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকর্ষণ করছে। মন্দির কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী মনোজ কুমার আনুষ্ঠানিকভাবে এই কৃষ্ণ বিগ্রহের উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা মন্দিরটি পরিদর্শনে আসছেন।
তবে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত রামচন্দ্র ও মহাদেব (শিব) মূর্তির বিষয়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে। মন্দির চত্বরে বিশাল আকৃতির রাম ও শিব বিগ্রহ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত কাজও চলছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাজ এখনো সম্পূর্ণ শেষ হয়নি। ফলে বর্তমানে এগুলোকে দেশের সবচেয়ে বড় রাম বা শিব মূর্তি হিসেবে নিশ্চিতভাবে ঘোষণা করার সুযোগ নেই। নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে।
মন্দির কমিটির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো কমপ্লেক্সে দেব-দেবীর মোট ১৪৪টি পৃথক প্রতিমা, বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনা এবং নান্দনিক স্থাপত্য নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ হলে এটি শুধু একটি উপাসনালয় হিসেবেই নয়, বরং বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই মন্দির কমপ্লেক্স ইতোমধ্যে এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। দূর-দূরান্ত থেকে আগত দর্শনার্থীদের কারণে আশপাশের ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি এসেছে। পাশাপাশি ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।




















