Home West Bengal আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও গ্রেফতার হয়নি পরেশ পাল! হাইকোর্টে অভিজিতের দাদা বিশ্বজিৎ

আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও গ্রেফতার হয়নি পরেশ পাল! হাইকোর্টে অভিজিতের দাদা বিশ্বজিৎ

abhijit-sarkar-murder-case-paresh-pal-high-court-petition

কলকাতা: ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গে ছড়িয়ে পড়া (Abhijit Sarkar)রাজনৈতিক হিংসার অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের মৃত্যু। সেই মামলাকে ঘিরে ফের নতুন করে উত্তাপ ছড়াল রাজ্য রাজনীতিতে। অভিজিৎ সরকারের ভাই বিশ্বজিৎ সরকার এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পাল, কাউন্সিলর স্বপন সমাদ্দার এবং পাপিয়া ঘোষের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, একাধিক অ-জামিনযোগ্য এফআইআর দায়ের হলেও এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

- Advertisement -

অভিজিৎ সরকার-এর মৃত্যু ২০২১ সালের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক সংঘর্ষের আবহে ঘটে। সেই সময় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে হিংসার ঘটনা সামনে আসে এবং একাধিক রাজনৈতিক কর্মীর উপর হামলার অভিযোগ ওঠে। অভিজিৎ সরকারের মৃত্যুর ঘটনা জাতীয় স্তরেও ব্যাপক চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। পরিবারের অভিযোগ ছিল, পরিকল্পিতভাবে তাঁকে খুন করা হয়েছিল এবং সেই ঘটনায় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ভূমিকা রয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ‘দেশের ডেমোগ্রাফি চেঞ্জ নিয়ে গঠন হবে উচ্চপর্যায়ের কমিটি!’ কড়া বার্তা শাহের

এবার সেই মামলায় নতুন করে সরব হলেন অভিজিতের ভাই বিশ্বজিৎ সরকার। সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি দাবি করেছেন, ২০২৩ এবং ২০২৫ সালে প্রাক্তন তৃণমূল নেতা পরেশ পাল এবং স্বপন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে অ-জামিনযোগ্য এফআইআর দায়ের হয়েছিল। এমনকি তাঁকেও শারীরিকভাবে হেনস্তার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, “পুলিশ এখনও তৃণমূলের প্রভাব থেকে বেরোতে পারেনি। তাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।”

বিশ্বজিৎ সরকারের আরও অভিযোগ, এতদিন কেটে গেলেও অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়নি, এমনকি কোনও সমনও পাঠানো হয়নি। তাঁর আইনজীবী আদালতে আবেদন জানিয়ে দাবি করেছেন, এই মামলাগুলিকে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হোক এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারও রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপির দাবি, রাজ্যে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনাগুলিতে এখনও ন্যায়বিচার মেলেনি। তাঁদের অভিযোগ, শাসকদলের প্রভাবশালী নেতাদের বিরুদ্ধে পুলিশ নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে না। অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের বক্তব্য, বিরোধীরা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পুরনো ঘটনাকে সামনে এনে নতুন বিতর্ক তৈরি করতে চাইছে।

২০২১ সালের পর-ভোট হিংসা নিয়ে ইতিমধ্যেই একাধিক মামলা আদালতে বিচারাধীন। কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট উভয় স্তরেই এই ধরনের মামলায় তদন্ত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই সিবিআই বা বিশেষ তদন্তকারী সংস্থাকে তদন্তভার দেওয়া হয়েছিল। ফলে অভিজিৎ সরকার মামলাও রাজনৈতিক এবং আইনি দুই ক্ষেত্রেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আদালত মনে করে তদন্তে গাফিলতি রয়েছে, তাহলে নতুন করে তদন্ত বা কঠোর নির্দেশ আসতে পারে। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অ-জামিনযোগ্য ধারায় অভিযোগ থাকলে আদালত পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকাও খতিয়ে দেখতে পারে।

Follow on Google