
ওয়াশিংটন: একদিকে কাতারের দোহায় শান্তি বৈঠক, অন্যদিকে হরমুজ প্রণালী নিয়ে আকাশ ও জলপথে সরাসরি যুদ্ধ! মার্কিন বিমান হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে পাল্টা চরম আঘাত দিল ইরান। মঙ্গলবার ইরানের রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছে, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তারা আমেরিকার একটি অত্যাধুনিক ‘MQ-9’ ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে। শুধু তাই নয়, ইরানি আকাশসীমায় ঢুকে পড়া একটি মার্কিন ফাইটার জেট বা যুদ্ধবিমানকে লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে দাবি তেহরানের। এই ঘটনার পর নতুন করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
‘আমেরিকান ঘাঁটির ঢাল হবে না মধ্যপ্রাচ্য’, গর্জন নতুন সর্বোচ্চ নেতার
চলতি বছর মার্চ মাসে ইরানের কুর্সিতে বসার পর এই প্রথম বিবৃতি দিলেন দেশের নতুন সুপ্রিম লিডার বা সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই। ইদ-উল-আজহার বার্তা দিতে গিয়ে মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রকাশিত এক লিখিত বিবৃতিতে তিনি ওয়াশিংটনকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন। মোজতবা খামেনেই বলেন, “সময়ের চাকা আর পিছনের দিকে ঘুরবে না। এই অঞ্চলের দেশ ও মাটি আর কোনওভাবেই মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর জন্য ঢাল (Shield) হিসেবে কাজ করবে না।” তিনি আরও দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা দ্রুত তার প্রভাব হারাচ্ছে এবং দিন দিন তাদের পূর্বের আধিপত্য শেষ হয়ে যাচ্ছে।
শান্তি বৈঠকের মাঝেই মাঝরাতে আমেরিকার বোমাবর্ষণ
এই চরম উত্তেজনার সূত্রপাত কয়েক ঘণ্টা আগে, যখন মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTOM) দক্ষিণ ইরানে ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং মাইন বিছানো ইরানি বোট বা নৌকাগুলোর ওপর ‘আত্মরক্ষামূলক’ বিমান হামলা চালায়। সোমবার মাঝরাতে ইরানের বন্দর আব্বাস শহরের কাছে একাধিক বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স এক বিবৃতিতে বলেন, “ইরানি বাহিনীর তরফ থেকে আমাদের সেনাদের ওপর যে হুমকি তৈরি হয়েছিল, তার জবাবেই দক্ষিণ ইরানে এই আত্মরক্ষামূলক হামলা চালানো হয়েছে।”
হরমুজ লকগেট ও ট্রাম্পের পরমাণু শর্ত
কয়েক মাস ধরে চলা এই যুদ্ধের জেরে ইরান বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি রফতানি রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ অবরুদ্ধ (Blockade) করে রেখেছিল, যার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে ধস নামে। বর্তমানে দোহায় দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ২ মাসের জন্য বাড়ানোর আলোচনা চলছে, যেখানে আমেরিকার শর্ত হলো ব্লকড তোলা এবং ইরানের শর্ত হলো হরমুজ প্রণালীর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখা। আমেরিকা, ইউরোপ ও আরব দেশগুলো ইরানের এই দাবি মানতে নারাজ।
অন্য দিকে, ভারতে দাঁড়িয়ে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, আলোচনার খসড়া চূড়ান্ত করতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় একদিকে যেমন লিখেছেন “আলোচনা ভালোই চলছে”, অন্যদিকে তেমনই হুমকি দিয়েছেন— বৈঠক ব্যর্থ হলে আরও বড় হামলা চালানো হবে। পাশাপাশি ট্রাম্প শর্ত দিয়েছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হয় ইরানের মাটিতেই ধ্বংস করতে হবে, না হলে তা আমেরিকার হাতে তুলে দিতে হবে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে, যদিও তেহরান বরাবরই এই দাবি অস্বীকার করে এসেছে।













