কলকাতা: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। এবার ইরাকের কাছে একটি মার্কিন মালিকানাধীন তেলের জাহাজে ইরানের ‘আত্মঘাতী’ নৌকোর হামলায় এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। ১২ মার্চ ১৩ দিনে পা দিল আমেরিকা-ইজরায়েল-ইরান সংঘাত। আর এই যুদ্ধে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৩ জন ভারতীয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে, আহত হয়েছেন ২০ জনেরও বেশি।
‘সেফসি বিষ্ণু’-তে আত্মঘাতী হামলা
জানা গিয়েছে, ইরাকের জলসীমায় ‘সেফসি বিষ্ণু’ নামের ওই মার্কিন তেলের জাহাজটিকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালায় ইরান। চলমান সংঘাতের মাঝেই একটি আত্মঘাতী বোট দিয়ে এই প্রাণঘাতী আক্রমণ শানানো হয়, যার জেরেই প্রাণ হারান ওই ভারতীয় নাগরিক।
আগের হামলাগুলিতেও বলি ভারতীয়রা Iran suicide boat attack on oil tanker
এর আগে মাসের শুরুতেও বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলার শিকার হয়েছিলেন ভারতীয়রা৷ ১ ও ২ মার্চ ওমান উপকূলে এমভি এমকেডি ব্যোম এবং এমভি স্কাইলাইট নামের দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন ও মিসাইল হামলা চালায় ইরান। মার্কিন ও ইজরায়েলি হামলার বদলা নিতেই এই পদক্ষেপ বলে দাবি করা হয়।
ওই জোড়া হামলায় তিন ভারতীয়ের মৃত্যু হয়েছিল (স্কাইলাইটে দুজন এবং ব্যোমে একজন)। ২০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন, যাদের মধ্যে এক ভারতীয় এখনও ভেন্টিলেশনে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।
গত ৭ মার্চ সৌদি আরবের আল খারজে হামলায় এক ভারতীয়ের মৃত্যুর খবর ছড়ালেও পরে তা সংশোধন করা হয়। জানানো হয়, ওই ঘটনায় কারও মৃত্যু হয়নি, তবে এক ভারতীয় আহত হয়েছিলেন।
চরম আতঙ্কে প্রবাসী ভারতীয়রা, নয়াদিল্লির পদক্ষেপ
সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব এবং কুয়েত-সহ উপসাগরীয় দেশগুলিতে প্রায় ৯০ লক্ষ থেকে ১ কোটি ভারতীয় বসবাস করেন।
বর্তমানে এই অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি এবং তেল শোধনাগারগুলিকে লক্ষ্য করে ইরান ১০০০-এরও বেশি ড্রোন ও মিসাইল ছুঁড়েছে, যার ফলে চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছেন প্রবাসীরা।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারত সরকার ইতিমধ্যেই ওই অঞ্চলে থাকা নাগরিকদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে।
সংঘাতের আবহে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বারবার কূটনীতি ও আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ফেরানোর পথেই জোর দিয়েছেন। ১২ মার্চ পর্যন্ত নতুন করে আর কোনও ভারতীয়ের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।



















