সিরসা বোমা বিস্ফোরক কাণ্ডে ২ পাকস্তানি সহ ৯ জনকে চার্জশীট NIA র

হরিয়ানা: হরিয়ানার সিরসা নারী থানা লক্ষ্য করে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঘটে যাওয়া (Grenade Attack)গ্রেনেড হামলা মামলায় এবার বড় পদক্ষেপ নিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। মোট ৯ জন অভিযুক্তের ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
sirsa-women-police-station-grenade-attack-nia-chargesheet-2026

হরিয়ানা: হরিয়ানার সিরসা নারী থানা লক্ষ্য করে ২০২৫ সালের নভেম্বরে ঘটে যাওয়া (Grenade Attack)গ্রেনেড হামলা মামলায় এবার বড় পদক্ষেপ নিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA)। মোট ৯ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে দুইজন পাকিস্তানি নাগরিকও রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। এনআইএ-র দাবি, এই হামলার পেছনে একটি সুপরিকল্পিত আন্তঃসীমান্ত ষড়যন্ত্র কাজ করছিল, যেখানে বিদেশি হ্যান্ডলারদের নির্দেশে ভারতের অভ্যন্তরে থাকা একাধিক ব্যক্তি সক্রিয় ভূমিকা নেয়।

তদন্তকারী সংস্থার চার্জশিট অনুযায়ী, এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে আতঙ্ক তৈরি করা এবং একটি নির্দিষ্ট এলাকায় ভীতি সঞ্চার করা। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে যে, পাকিস্তানভিত্তিক হ্যান্ডলাররা অনলাইনে এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ভারতীয় মাটিতে থাকা কয়েকজনকে এই পরিকল্পনায় যুক্ত করে। ধাপে ধাপে তাদের প্রশিক্ষণ, অর্থায়ন এবং বিস্ফোরক সংগ্রহের দিকনির্দেশ দেওয়া হয়।

   

আরও দেখুনঃ আমেরিকার হামলার পরেই কড়া বদলা! মার্কিন ড্রোন ধ্বংস করে ফাইটার জেটে গুলি ইরানের

ঘটনাটি ঘটে ২০২৫ সালের ২৫ নভেম্বর, যখন সিরসা নারী থানাকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। বিস্ফোরণের ফলে থানার আশেপাশে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, যদিও বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয় বলে জানা যায়। ঘটনার পরপরই স্থানীয় পুলিশ ও কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে এবং পরে মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তভার এনআইএ-কে দেওয়া হয়।

এনআইএ সূত্রে জানা গেছে, তদন্তে উঠে এসেছে একটি সংগঠিত নেটওয়ার্কের অস্তিত্ব, যেখানে বিদেশে থাকা মূল হ্যান্ডলারদের নির্দেশে ভারতীয় সহযোগীরা বিভিন্ন লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করত। এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিস্ফোরক সংগ্রহ, লক্ষ্য নির্বাচন এবং আক্রমণ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ। তদন্তকারীদের দাবি, অভিযুক্তদের মধ্যে কয়েকজন সামাজিক মাধ্যম এবং এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত।

চার্জশিটে নাম থাকা অভিযুক্তদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকদের পাশাপাশি দুইজন পাকিস্তানি নাগরিকের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের ভূমিকা মূল পরিকল্পনা ও নির্দেশনা দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে দাবি তদন্তকারীদের। বিশেষ এনআইএ আদালতে জমা দেওয়া চার্জশিটে ইউএপিএ, বিস্ফোরক আইন এবং ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারা যুক্ত করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর নিরাপত্তা সংস্থাগুলি দেশের বিভিন্ন পুলিশ স্থাপনা ও সংবেদনশীল এলাকায় নজরদারি আরও বাড়িয়েছে। বিশেষ করে নারী পুলিশ স্টেশন এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে।

অন্যদিকে, এই মামলার তদন্ত এখনও শেষ হয়নি বলে জানিয়েছে এনআইএ। সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে এবং আর্থিক লেনদেন ও যোগাযোগের উৎস খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিদেশি সংযোগ ও ফান্ডিং চ্যানেল সম্পর্কেও বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে।

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google