
আসানসোল: পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলের বার্নপুর এলাকায় অবৈধ দখলদারির বিরুদ্ধে অভিযান আরও তীব্র হয়েছে (illegal TMC office)। আজ প্রশাসন বুলডোজার চালিয়ে ভারতীয় ইস্পাত কর্তৃপক্ষ (এসএআইএল)-এর জমিতে গড়ে ওঠা আরেকটি অভিযুক্ত অবৈধ তৃণমূল কার্যালয় গুঁড়িয়ে দিয়েছে। বার্নপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে অবস্থিত এই স্থাপনাটি তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর অশোক রুদ্রর অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হত বলে জানা গিয়েছে।
Asansol, West Bengal: The anti-encroachment drive in Burnpur intensified today as authorities demolished another alleged illegal structure built on land of the Steel Authority of India Limited near Burnpur Railway Station. The structure reportedly functioned as the office of TMC… pic.twitter.com/ItrS812kUm
— IANS (@ians_india) May 23, 2026
অভিযান চলাকালীন এলাকায় ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এটি বার্নপুরে ধ্বংস করা চতুর্থ তৃণমূল কার্যালয়।প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, এসএআইএল-এর মালিকানাধীন জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত এই স্থাপনাটি দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। আজ সকালে হঠাৎ করেই ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে অভিযান শুরু হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে পুরো স্থাপনাটি ধুলোয় মিশে যায়। অভিযানের সময় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
আরও দেখুনঃ লাদাখে ভেঙে পড়ল সেনার ‘চিতা’! চূর্ণবিচূর্ণ কপ্টার
তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা ঘটনাস্থলে জড়ো হলেও পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় কোনো বড় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অফিসটি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক কাজকর্মের জন্য ব্যবহার হচ্ছিল।এসএআইএল কর্তৃপক্ষ এই অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে। তাঁরা বলেছেন, সরকারি জমি দখল করে রাজনৈতিক অফিস চালানো আইনবিরোধী। বার্নপুরে এর আগেও তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত তিনটি অফিস ধ্বংস করা হয়েছে।
এই নিয়ে চারবার অভিযান চালিয়ে প্রশাসন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে কোনো ধরনের অবৈধ দখলদারিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।তৃণমূল কংগ্রেস এই অভিযানকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে অভিহিত করেছে। দলের স্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, অশোক রুদ্র একজন জনপ্রিয় কাউন্সিলর। তাঁর অফিসটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সমস্যা সমাধানের কাজে ব্যবহৃত হত। তৃণমূলের এক মুখপাত্র বলেন, “এসএআইএল-এর জমিতে অফিস ছিল বলে ধ্বংস করা হচ্ছে, কিন্তু অন্য অনেক জায়গায় যেসব অবৈধ স্থাপনা রয়েছে সেগুলো নিয়ে কেন কোনো অ্যাকশন নেওয়া হচ্ছে না?
এটা স্পষ্টভাবে বিরোধী দলকে টার্গেট করার চেষ্টা।”অন্যদিকে বিজেপি নেতারা এই অভিযানকে সরকারের সাহসী পদক্ষেপ বলে প্রশংসা করেছেন। আসানসোলের বিজেপি নেতা জানিয়েছেন, “এতদিন তৃণমূলের আমলে অবৈধ দখলদারির রাজত্ব চলছিল। এখন আইনের শাসন ফিরছে। সরকারি জমি কেউ দখল করে রাজনৈতিক অফিস চালাতে পারবে না।” তাঁরা আরও বলেছেন, বার্নপুর এলাকায় তৃণমূলের একাধিক অফিস অবৈধভাবে গড়ে উঠেছিল এবং সেগুলো থেকে স্থানীয় মানুষ হয়রানির শিকার হতেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ফেলায় এলাকার পরিবেশ উন্নত হবে। অনেকে অবশ্য উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, রাজনৈতিক অফিস ধ্বংস হওয়ায় সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে অসুবিধা হতে পারে। বার্নপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন এলাকাটি ঘনবসতিপূর্ণ। এখানে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিতর্ক চলছে।













