Home Bharat গত ৫ বছরে বিশাল সাফল্য! দেশে-বিদেশে অজ্ঞাত পরিচয়ের গুলিতে নিহত ১৫ হেভিওয়েট...

গত ৫ বছরে বিশাল সাফল্য! দেশে-বিদেশে অজ্ঞাত পরিচয়ের গুলিতে নিহত ১৫ হেভিওয়েট জঙ্গি কমান্ডার

terror-commanders-killed-unknown-attackers-reports

নয়াদিল্লি: গত পাঁচ বছরে দেশে এবং বিদেশের মাটিতে চমক দিয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকধারীরা। (unknown attackers)অতর্কিত হামলায় একের পর এক হেভিওয়েট জঙ্গি কমান্ডার ও সংগঠনের শীর্ষ নেতার মৃত্যু ঘিরে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রিপোর্ট অনুযায়ী, লস্কর-ই-তৈবা (LeT), জইশ-ই-মহম্মদ (JeM), হিজবুল মুজাহিদিন (HM) সহ একাধিক জঙ্গি সংগঠনের অন্তত ১৫ জন শীর্ষ নেতা অজ্ঞাত হামলাকারীদের গুলিতে বা রহস্যজনক ঘটনায় নিহত হয়েছেন।

- Advertisement -

এই ঘটনাগুলির কোনওটির ক্ষেত্রেই সরাসরি দায় স্বীকার করেনি কোনও সংগঠন বা রাষ্ট্র। ফলে প্রতিটি ঘটনাই এখনও পর্যন্ত “অজ্ঞাত আততায়ী” বা “রহস্যময় হামলা” হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে রয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলি নিয়ে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মহলে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

   

আরও দেখুনঃ ১ জুন থেকে বাসে ফ্রি যাতায়াত মহিলাদের! কীভাবে আবেদন করবেন? কী কী নথি লাগবে?

রিপোর্ট অনুযায়ী, নিহতদের তালিকায় রয়েছে ২০২৬ সালের মে মাসে নিহত হামজা বুরহান, যিনি আল-বদর সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হয়। একই সময়পর্বে লস্কর-ই-তৈবার শীর্ষ নেতা শেখ ইউসুফ আফ্রিদির মৃত্যুও ঘটে বলে জানা যায়। ২০২৫ সালের মধ্যে আরও একাধিক জইশ ও লস্কর নেতার মৃত্যুর খবর সামনে আসে, যার মধ্যে রজাউল্লাহ নিজামানি, মুদাসসার খদিয়ান খাস, হাফিজ মুহাম্মদ জামীল, মোহাম্মদ ইউসুফ আজহার এবং খালিদ (আবু আকাশা)-র নাম উল্লেখযোগ্য।

এর পাশাপাশি ২০২৩ সালে শাহিদ লতিফ, রিয়াজ আহমদ (আবু কাসিম) এবং বাসির আহমদ পীরের মতো শীর্ষ পর্যায়ের জঙ্গি নেতাদের মৃত্যু ঘিরেও একই ধরনের রহস্য তৈরি হয়। কোথাও গুলিবর্ষণ, কোথাও অজ্ঞাত হামলা, আবার কোথাও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে, কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হামলাকারীদের পরিচয় প্রকাশ্যে আসেনি।

বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই ধারাবাহিক ঘটনাগুলি দক্ষিণ এশিয়ার জঙ্গি নেটওয়ার্কের উপর গভীর চাপ তৈরি করেছে। যদিও কোনও সরকারই আনুষ্ঠানিকভাবে এই ধরনের অভিযানের দায় স্বীকার করেনি, তবুও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ বিভিন্ন সময় এই ঘটনাগুলিকে “টার্গেটেড এলিমিনেশন” বা নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে।

তবে অন্য একটি অংশ আবার বলছে, এই ধরনের ঘটনাগুলির পেছনে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, সংগঠনের ভিতরের ক্ষমতার লড়াই এবং স্থানীয় অপরাধচক্রের ভূমিকা থাকাও অসম্ভব নয়। ফলে প্রতিটি ঘটনাই এখনও পর্যন্ত রহস্যাবৃত থেকে গেছে।

এই প্রেক্ষাপটে দক্ষিণ এশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলির ভূমিকা নিয়েও নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও কোনও নির্দিষ্ট সংস্থার নাম প্রমাণসহ সামনে আসেনি, তবুও বিভিন্ন বিশ্লেষণে দাবি করা হচ্ছে যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ভারসাম্য পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে গোয়েন্দা কার্যকলাপ আরও সক্রিয় হয়েছে।

পাকিস্তান ও ভারত দুই দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতেই এই ধরনের ঘটনাগুলি নতুন চাপ তৈরি করেছে। বিশেষ করে সীমান্তপার সন্ত্রাসবাদ ইস্যুতে বারবার উত্তেজনা তৈরি হওয়ার পর এই রহস্যময় মৃত্যুগুলি কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রেও প্রভাব ফেলছে।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, জঙ্গি সংগঠনগুলির শীর্ষ নেতৃত্বকে ধারাবাহিকভাবে হারানো তাদের কাঠামোগত দুর্বলতা বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন নেতৃত্ব গঠনের প্রক্রিয়াও ব্যাহত হচ্ছে। তবে এর ফলে এই সংগঠনগুলি আরও বিচ্ছিন্ন এবং অপ্রত্যাশিতভাবে সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

Follow on Google