মুজফফরাবাদ: পাকিস্তানের মাটিতে ফের সক্রিয় ‘অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজ’ (Unknown Gunmen)-এর দল। অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীদের গুলিতেই পাক-অধিকৃত কাশ্মীরের (PoK) মুজফফরাবাদে খতম ২০১৯ সালের ভয়াবহ পুলওয়ামা আত্মঘাতী জঙ্গি হামলার অন্যতম প্রধান চক্রী হামজা বুরহান ওরফে ‘ডক্টর’। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ২০২২ সালেই তাকে ‘মোস্ট ওয়াান্টেড’ এবং ‘ঘোষিত আন্তর্জাতিক জঙ্গি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছিল। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, মুজফফরাবাদের সেফ হাউসে অজ্ঞাতপরিচয় আততায়ীরা তাকে লক্ষ্য করে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়৷ একাধিক বুলেটবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এই কুখ্যাত আল-বদর কমান্ডারের। (Pulwama attack mastermind killed in PoK)
উচ্চশিক্ষার আড়ালে রাওয়ালপিন্ডি যাত্রা, তারপরই মগজধোলাইয়ের ব্লু-প্রিন্ট
হামজা বুরহানের আসল নাম অর্জুমান্দ গুলজার দার। জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামার রত্নিপোরা এলাকার বাসিন্দা বুরহান ২০১৭ সালে উচ্চশিক্ষার দোহাই দিয়ে পাকিস্তান পালিয়েছিল। কিন্তু রাওয়ালপিন্ডির সবুজ সংকেত মেলা মাত্রই সে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ‘আল-বদর’-এ যোগ দেয় এবং নিজের ক্ষুরধার মস্তিস্কের জোরে দ্রুত কাশ্মীরে সংগঠনটির শীর্ষ চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে। এরপর উপত্যকায় ফিরে এসে একের পর এক কাশ্মীরি যুবকের মগজধোলাই করে জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগ করাই ছিল বুরহানের মূল কাজ। দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা থেকে শোপিয়ান পর্যন্ত সে নিজের নাশকতার জাল বিছিয়েছিল।
৪০ জওয়ানের রক্ত লেগেছিল হাতে, বিস্ফোরক জুগিয়েছিল এই বুরহানই
২০১৯ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি কাশ্মীরের লেথপোরায় সিআরপিএফ (CRPF)-এর কনভয়ে জইশ-ই-মহম্মদের আত্মঘাতী গাড়ি বোমা হামলায় দেশের ৪০ জন বীর জওয়ান শহিদ হয়েছিলেন। ভারতীয় গোয়েন্দাদের দাবি, সেই হামলায় ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ আরডিএক্স (RDX) এবং চিনের তৈরি গ্রেনেড জঙ্গিদের সেফ হাউসে পৌঁছে দেওয়ার মূল দায়িত্বে ছিল এই হামজা বুরহান। এই ঘটনার পরেই ভারত পাকিস্তানের বালাকোটে এয়ার স্ট্রাইক চালিয়ে জইশের মারণ ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। ২০২০ সালের নভেম্বরে সিআরপিএফ-এর ওপর আরেকটি গ্রেনেড হামলার নেপথ্যেও হাত ছিল বুরহানের। ভারতীয় সেনা তার খোঁজে চিরুনি তল্লাশি শুরু করতেই সে সীমান্ত পেরিয়ে আইএসআই-এর ছত্রছায়ায় পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে আত্মগোপন করে। কিন্তু শেষরক্ষা হলো না।
পাকিস্তানের বুকে ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ ত্রাস, ঘুম উড়েছে আইএসআই-এর
হামজা বুরহানের এই রহস্যমৃত্যু কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বিগত কয়েক বছর ধরে পাকিস্তান ও পিওকে-র মাটিতে লস্কর-ই-তৈবা (LeT), জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) এবং হিজবুল মুজাহিদিনের শীর্ষ কমান্ডারদের এভাবেই একের পর এক ‘অজ্ঞাতপরিচয়’ বাইক-আরোহী বন্দুকবাজরা অত্যন্ত পেশাদার নিশানায় খতম করে চলেছে। গত মাসেই লাহোরে জনসমক্ষে খতম হয় লস্করের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আমির হামজা। গত মার্চে জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের বড় ভাই মহম্মদ তাহির আনোয়ারের রহস্যমৃত্যু হয়।
জিলম সিন্ধ এলাকায় গুলিতে ঝাঁঝরা করা হয় ২৬/১১ মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড হাফিজ সইদের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ডানহাত আবু কাতালকে, যে ২০২৪ সালের রিয়াসি জঙ্গি হামলায় সরাসরি জড়িত ছিল।
পরপর এই ধরণের নিখুঁত ও সুপরিকল্পিত হাই-প্রোফাইল কিলিং মিশন বা ‘টার্গেটেড কিলিং’ পাকিস্তানের বুকে আত্মগোপন করে থাকা জঙ্গিদের মনে এখন গভীর ত্রাসের সৃষ্টি করেছে, যা ঘুম উড়িয়েছে তাদের রক্ষাকর্তা পাক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)-এরও।




















