‘গরুর আয়ু ১৫ বছর’, গরুর বয়স নির্ধারণে স্পষ্ট নীতি কোথায়? জানতে চাইল হাইকোর্ট

রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পশুহত্যা সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও আইনি মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গরু, মহিষ ও বাছুর ...

By Suparna Parui

Published:

Follow Us
Calcutta High Court Bike Ban Row

রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর পশুহত্যা সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও আইনি মহলে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। গরু, মহিষ ও বাছুর হত্যার ক্ষেত্রে একাধিক শর্ত আরোপ করে রাজ্য সরকার (Calcutta High Court) যে নীতি কার্যকর করেছে, তার বৈধতা এবং বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছে। বৃহস্পতিবার সেই মামলাগুলির গুরুত্বপূর্ণ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ শুনানির পর আদালত রায়দান স্থগিত রাখে।

এই মামলার অন্যতম আবেদনকারীর (Calcutta High Court) আইনজীবী দেবযানী সেনগুপ্ত আদালতে সওয়াল করতে গিয়ে দাবি করেন, বকরি ইদের সময় গো-হত্যার উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত। পাশাপাশি তিনি একটি বিশেষ পর্যবেক্ষণ কমিটি বা মনিটরিং কমিটি গঠনের প্রস্তাবও দেন, যাতে গোটা প্রক্রিয়ার উপর নজরদারি রাখা যায়। তাঁর বক্তব্য, আইন কার্যকর করার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক নজরদারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

   

তবে মামলার শুনানিতে শুধু (Calcutta High Court) নিষেধাজ্ঞার প্রশ্নই নয়, সরকারের জারি করা নির্দেশিকা বাস্তবে কীভাবে কার্যকর হবে, তা নিয়েও একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ওঠে। আদালতে আলোচনার সময় আইনজীবীরা পরিকাঠামোগত ঘাটতির বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন। তাঁদের মতে, সরকারের নির্দেশিকা কার্যকর করার জন্য যে ধরনের প্রশাসনিক ও স্বাস্থ্য পরিকাঠামো প্রয়োজন, তা বর্তমানে রাজ্যে পর্যাপ্ত নয়।

আইনজীবী ইমতিয়াজ আহমেদ আদালতে বলেন, প্রতিটি ব্লকে পশু চিকিৎসক নিয়োগ করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ, সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী উপযুক্ত শংসাপত্র ছাড়া গরু, বাছুর বা অন্যান্য পশু হত্যা করা যাবে না। সেই শংসাপত্র প্রদান করার দায়িত্ব থাকবে পশু চিকিৎসকদের ওপর। কিন্তু বাস্তবে বহু এলাকায় পর্যাপ্ত পশু চিকিৎসক নেই বলেই তিনি দাবি করেন।

তিনি আরও বলেন, কসাইখানার সংখ্যা এবং তাদের আধুনিক পরিকাঠামো নিয়েও বড় সমস্যা রয়েছে। কোথায় সরকারি অনুমোদিত কসাইখানা রয়েছে এবং সেখানে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার এখনও পর্যন্ত পর্যাপ্ত কসাইখানা বা পশু স্বাস্থ্য পরিকাঠামো তৈরি করতে পারেনি, ফলে নির্দেশিকা কার্যকর করা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ তৈরি হচ্ছে।

মামলার শুনানিতে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উঠে আসে গরুর বয়স নির্ধারণ নিয়ে। সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ১৪ বছরের কম বয়সী গরু হত্যা করা যাবে না। এই নিয়ম কার্যকর করার বাস্তবতা নিয়েই আদালতে প্রশ্ন তোলেন আইনজীবীরা। ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “একটি গরুর গড় আয়ু প্রায় ১৫ বছর। তাহলে ১৪ বছর বয়স নির্ধারণের ভিত্তি কী এবং তা বাস্তবে কীভাবে যাচাই করা হবে?” তাঁর বক্তব্য, গ্রামাঞ্চল বা সাধারণ খামারগুলিতে পশুর জন্ম সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য নথি অধিকাংশ ক্ষেত্রেই থাকে না। ফলে বয়স নির্ধারণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।

আদালতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়টিও বিশেষভাবে উঠে আসে। আইনজীবীরা জানান, ধর্মীয় উৎসব ও পশু বলি সংক্রান্ত বিষয় অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাই আইন প্রয়োগের সময় প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে হবে এবং এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে না, যা সামাজিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে।

শুনানিতে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকেও নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করা হয়। সরকার জানায়, পশু সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। তবে আদালত বিভিন্ন বাস্তব সমস্যার বিষয় তুলে ধরে সরকারের কাছে একাধিক প্রশ্ন তোলে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Suparna Parui

হাতেখড়ি চ্যানেলে। খবরের গন্ধ শনাক্ত করার কৌশল শেখা সেখান থেকেই। তারপর ৬ বছর ধরে বিনোদন রাজনীতির খবরের ব্যবচ্ছেদ করে চলেছি। খবর শুধু পেশা নয়, একমাত্র নেশাও বটে।কাজের পাশাপাশি সিনেমা দেখতে, গান শুনতে, বেড়াতে যেতে খুব ভালোলাগে। তাই সময় সুযোগ পেলেই বেরিয়ে পড়ি নতুন অ্যাডভেঞ্চারের উদ্দেশ্যে।

Follow on Google