মালদা: রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে মালদার মালাতিপুরে ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা (Abdur Rahim Boxi)। তৃণমূল বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সির পরিচালিত একটি বেসরকারি স্কুলের বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দিয়েছে বিদ্যুৎ দফতর। স্কুলের বকেয়া বিদ্যুৎ বিলের পরিমাণ প্রায় ১৬ লক্ষ টাকা। দীর্ঘদিন ধরে বিল না মেটানো এবং প্রভাব খাটিয়ে সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিধায়কের বিরুদ্ধে।স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, মালাতিপুর এলাকায় অবস্থিত এই স্কুলটি বছরের পর বছর ধরে চলছিল।
কিন্তু বিদ্যুৎ বিল জমতে জমতে ১৬ লক্ষ টাকায় পৌঁছে গিয়েছিল। বিদ্যুৎ দফতরের কর্মকর্তারা বারবার নোটিশ দিলেও কোনো সাড়া মেলেনি। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক নির্দেশে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। স্কুল চত্বরে এখন অন্ধকার। পড়ুয়া ও শিক্ষক-শিক্ষিকারা চরম সমস্যায় পড়েছেন।অভিযোগ উঠেছে, বিধায়ক আব্দুর রহিম বক্সি তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বছরের পর বছর ধরে বিল না দিয়েই স্কুল চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সাধারণ মানুষকে বিদ্যুৎ বিলের জন্য তাগাদা দেওয়া হলেও প্রভাবশালী নেতার স্কুলের ক্ষেত্রে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আরও দেখুনঃ ব্যাহত হতে পারে জাতীয় নিরাপত্তা! জনস্বার্থ মামলায় দিল্লি হাইকোর্টের রোষে ধুরন্ধর ২
এখন নতুন প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর এই অনিয়মের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।আরও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে স্কুলের জমি নিয়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই বেসরকারি স্কুলটি সরকারি জমি দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে। জমি চুরির অভিযোগও উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসন চুপ ছিল বলে অভিযোগ। একজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “বিধায়কের লোকজনের ভয়ে কেউ কথা বলতে সাহস পায়নি।
সরকারি জমিতে স্কুল বানিয়ে চালিয়ে যাওয়া হয়েছে, আর বিদ্যুৎ বিলও দিতে হয়নি। এবার যেন সত্যি কিছু হয়।”টিএমসি শিবির অবশ্য এই ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বলে দাবি করেছে। তাঁরা বলছেন, বিজেপি সরকার বিরোধী দলের নেতাদের হয়রানি করার জন্য এসব পদক্ষেপ নিচ্ছে। আব্দুর রহিম বক্সির ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, বিল নিয়ে আলোচনা চলছিল, হঠাৎ করে বিদ্যুৎ কেটে দেওয়া হয়েছে।
এতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি হচ্ছে।অন্যদিকে বিজেপি নেতারা বলছেন, এটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার উদাহরণ। যিনি যত বড় নেতাই হোন, সরকারি বিল বকেয়া রাখলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারি জমি দখল করে প্রতিষ্ঠান চালানোরও কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। মালদা জেলা প্রশাসন এখন স্কুলের জমির দলিল ও অন্যান্য নথিপত্র খতিয়ে দেখছে।




















