কলকাতা: ঈদ-উল-আজহার প্রস্তুতিতে সময় সংকটের কথা তুলে ধরে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের (Mahua Moitra)সাংসদ মহুয়া মৈত্র। আজ আদালতে তাঁর আবেদন ছিল আইটেম নম্বর ১২, কোর্ট নম্বর ১-এ। ১৯৫১ সালের অ্যানিম্যাল স্লটার অ্যাক্টের সেকশন ১২-এর অধীনে ছাড়পত্র চাওয়া হয়েছে। ১৩ই মে জারি করা সরকারি নোটিফিকেশনের কারণে যাতে ঈদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেই আবেদনই করা হয়েছে।
মহুয়া মৈত্র বলেন, “আমরা এইমাত্র আমাদের পিটিশন দাখিল করেছি। আজ কোর্ট নম্বর ১-এ আইটেম ১২ ছিল। পিটিশনে ১৯৫১ সালের অ্যানিম্যাল স্লটার অ্যাক্টের সেকশন ১২-এর অধীনে ছাড় চাওয়া হয়েছে। ১৩ই মে জারি করা নোটিফিকেশনের প্রেক্ষিতে এই আবেদন। ঈদ-উল-আজহা ২৭ বা ২৮ তারিখে হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সময় খুব কম। তাই সরকার যাতে সেকশন ১২ অনুসারে ছাড় দিতে পারে, সেই আবেদন করা হয়েছে।
আরও দেখুনঃ রোদ জ্বলা দুপুরে গরম থেকে বাঁচতে ট্রাফিক পুলিশদের সামার কিট বিলি পুলিশ কমিশনারের
উৎসবের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাপনার জন্য এই ছাড় অত্যন্ত জরুরি।”ঈদ-উল-আজহা মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসবে পশু কোরবানির রীতি রয়েছে। অনেক পরিবার এই উপলক্ষে দীর্ঘদিন ধরে প্রস্তুতি নেন। কিন্তু ১৩ই মে জারি হওয়া নোটিফিকেশনের পর সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কলকাতা-সহ বিভিন্ন জেলায় বাজারে পশু কেনাবেচা এবং কোরবানির ব্যবস্থাপনা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে।
মহুয়া মৈত্রের আবেদনে সেই উদ্বেগের প্রতিফলন ঘটেছে।রাজ্যের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একাংশ বলছেন, উৎসবের মাত্র কয়েকদিন আগে এ ধরনের নোটিফিকেশন তাঁদের ধর্মীয় অনুশাসন পালনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে প্রাণী অধিকার কর্মীরা বলছেন, আইন মেনে চলা উচিত। এই বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে অনেকে। মহুয়া মৈত্র আরও জানিয়েছেন, আবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে সরকার সেকশন ১২-এর ক্ষমতাবলে এ ধরনের ছাড় দিতে পারে।
ঈদের উৎসব যাতে শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে। আদালত যদি এই আবেদন মঞ্জুর করে, তাহলে রাজ্য জুড়ে ঈদের প্রস্তুতিতে স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, মুসলিম সম্প্রদায়ের অনেক পরিবার এখনও অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
অন্যদিকে কিছু প্রাণীপ্রেমী সংগঠন বলছে, আধুনিক সময়ে বিকল্প উপায় খুঁজে বের করা উচিত।এই মামলায় আদালতের পরবর্তী শুনানির দিকে তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অধিকার রক্ষায় তাঁরা সবসময় সোচ্চার। বিজেপি-সহ বিরোধী দলগুলো এই বিষয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।


















