ধীর ম্যাচে গুজরাটের দাপট, চেন্নাইকে ৮ উইকেটে হারাল গিলবাহিনী

Gujarat Titans সহজেই ১৫৯ রান তাড়া করে জয় পায়। Chennai Super Kings-এর ব্যাটিং ব্যর্থতা আবারও বড় চিন্তা বাড়াল।

By Kolkata24x7 Team

Published:

Follow Us
gujarat-titans-beat-chennai-super-kings-by-8-wickets-gill-ipl

বিট্টু দত্ত, কলকাতা: শনিবার আইপিএলে ছিল শুধুই রানের উৎসব। ডবল হেডারের দুই ম্যাচে চার ইনিংস মিলিয়ে প্রায় হাজার রানের কাছাকাছি স্কোর ওঠে। কিন্তু মাত্র একদিনের ব্যবধানে রবিবার চেন্নাই সুপার কিংস ও গুজরাট টাইটান্সের ম্যাচে দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো ছবি। এখানে ব্যাটারদের প্রতিটি রান তুলতে যথেষ্ট পরিশ্রম করতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত গুজরাট ৮ উইকেটে জয় তুলে নিয়ে আবার জয়ের ধারায় ফিরল। টসে জিতে গুজরাট অধিনায়ক শুভমান গিল প্রথমে ব্যাট করতে পাঠান চেন্নাইকে।

আরও পড়ুন: রোহিতের প্রত্যাবর্তনে ঘুরবে ভাগ্য? প্লে-অফ স্বপ্নে ভরসা মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের

শুরু থেকেই বোঝা যায়, উইকেটে বল সহজে ব্যাটে আসছে না। চেন্নাইয়ের ব্যাটাররা স্বাভাবিক ছন্দে রান তুলতে পারেননি। দ্রুত রান করার বদলে একপ্রকার ধীরগতিতেই এগোতে থাকে ইনিংস। ওপেনার সঞ্জু স্যামসন ১৫ বলে ১১ রান করে আউট হলেও ব্যক্তিগতভাবে বড় মাইলফলক স্পর্শ করেন। আইপিএলে পাঁচ হাজার রানের ক্লাবে নাম লেখান তিনি। দ্রুততমদের তালিকায়ও নিজের জায়গা শক্ত করেন সঞ্জু।

   

আরও পড়ুন: শিরোপার আশা বাঁচাতে চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে মরিয়া জামশেদপুর এফসি

তবে সঞ্জু ফিরে যাওয়ার পর বড় ধাক্কা খায় চেন্নাই। উরভিল প্যাটেল, সরফরাজ খান ও ডেওয়াল্ড ব্রেভিস কেউই রান করতে পারেননি। ফলে দলের স্কোরবোর্ডে চাপ বাড়তে থাকে। এই কঠিন সময়ে একপ্রকার একাই লড়াই করেন অধিনায়ক রুতুরাজ গায়কোয়াড়। শুরুতে তাঁকে কিছুটা সাহায্য করেন শিবম দুবে। পরে কার্তিক শর্মা ও জেমি ওভারটন ছোট কিন্তু কার্যকর ইনিংস খেলেন। একসময় মনে হচ্ছিল চেন্নাই ১৪০ রানও ছুঁতে পারবে না। ১২ ওভার শেষে দল মাত্র ৫০-এর একটু বেশি রান তুলেছিল। কিন্তু শেষের দিকে রুতুরাজ গতি বাড়ান। তিনি ৬০ বলে অপরাজিত ৭৪ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ছয়টি চার ও চারটি ছক্কা।

তাঁর দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়েই চেন্নাই ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৫৮ রান তুলতে সক্ষম হয়, যা এই পিচে লড়াই করার মতো স্কোর ছিল। ১৫৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গুজরাটও শুরুতে ঝুঁকি নেয়নি। শুভমান গিল ও সাই সুদর্শন ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়েন। পাওয়ার প্লের পরে শুভমান ২৩ বলে ৩৩ রান করে আউট হন। তবে ততক্ষণে জয়ের ভিত গড়ে গিয়েছিল। এরপর সাই সুদর্শন আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন। তিনি দুর্দান্ত শট খেলতে শুরু করেন এবং চেন্নাইয়ের বোলারদের ওপর চাপ বাড়ান।

আরও পড়ুন: East Bengal: ওডিশা ম্যাচের আগে কী বললেন অস্কার ব্রুজো?

সাই সুদর্শন ৪৬ বলে ৮৭ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলেন। তাঁর ব্যাটে ছিল একাধিক চোখধাঁধানো বাউন্ডারি। শেষ দিকে জয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার পর তিনি আউট হন। কিন্তু তখন গুজরাটের জয়ের জন্য দরকার ছিল মাত্র কয়েক রান। বাকি কাজ সহজেই শেষ করে দেয় দলের অন্য ব্যাটাররা। ১৬.৪ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্য পূরণ করে গুজরাট। এই জয়ের ফলে টানা দুই ম্যাচ হারের পর আবার ছন্দে ফিরল গুজরাট টাইটান্স। পয়েন্ট তালিকায়ও তারা উপরের দিকে উঠে এল। অন্যদিকে চেন্নাইয়ের ব্যাটিং ব্যর্থতা আবারও সামনে এল, যা দলকে চিন্তায় রাখবে। রবিবারের এই ম্যাচ দেখিয়ে দিল, টি-টোয়েন্টিতে সব দিন শুধু রানবন্যা হয় না, পরিস্থিতি বুঝে খেলাই আসল চাবিকাঠি।

Kolkata24x7 Team

আমাদের প্রতিবেদন গুলি kolkata24x7 Team এর দ্বারা যাচাই করে লেখা হয়। আমরা একটি স্বাধীন প্ল্যাটফর্ম যা পাঠকদের জন্য স্পষ্ট এবং সঠিক খবর পৌঁছে দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের লক্ষ্য এবং সাংবাদিকতার মান সম্পর্কে জানতে, অনুগ্রহ করে আমাদের About us এবং Editorial Policy পৃষ্ঠাগুলি পড়ুন।