আহমেদাবাদ: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্য গুজরাটে সাইবার অপরাধ দমনে সিআইডি ক্রাইমের (cyber fraud )অভিযানে উঠে এসেছে এক বিশাল জালিয়াতির চক্র। প্রায় ৭৭ কোটি টাকারও বেশি অর্থের সাইবার ফ্রডের র্যাকেট ভেঙে দিয়েছে গুজরাট সিআইডি ক্রাইম উইং। ভাদোদরা, পালানপুর এবং গোয়ায় একযোগে চালানো অভিযানে একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে দেশজুড়ে অন্তত ৩৭৫টি সাইবার ক্রাইম কেসের যোগসূত্র পাওয়া গেছে।
সিআইডি সূত্র জানিয়েছে, অভিযানে মাল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট (মিউল অ্যাকাউন্ট), জাল কোম্পানি এবং ব্যাপক সংখ্যক সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। এই চক্রটি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে অনলাইন ফ্রড, ফেক লোন অফার, ইনভেস্টমেন্ট স্ক্যাম এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিত। অভিযুক্তরা বিভিন্ন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টকে ‘মিউল’ হিসেবে ব্যবহার করে টাকা সরিয়ে নিত এবং জাল কোম্পানির নামে লেনদেন করে প্রমাণ লুকানোর চেষ্টা করত।
আরও দেখুনঃ চিকিৎসা পেশায় রাজনীতির রঙে সরব আরজিকর কাণ্ডের বিতর্কিত শান্তনু
অভিযানের সময় সিআইডি কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উদ্ধার করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, সিম কার্ড, ব্যাঙ্কের ডকুমেন্টস এবং লেনদেনের বিস্তারিত রেকর্ড। তদন্তকারীরা বলছেন, এই চক্রটি খুবই সংগঠিত ছিল। তারা দেশের বিভিন্ন রাজ্য থেকে সাধারণ নাগরিকদের অ্যাকাউন্টকে মিউল হিসেবে ব্যবহার করত। অনেক ক্ষেত্রে অজান্তে সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে টাকা সরানো হত।সিআইডি ক্রাইমের এই অভিযান গুজরাটে সাইবার অপরাধ দমনের একটি বড় উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
সম্প্রতি রাজ্যে অনলাইন প্রতারণার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় সিআইডি বিশেষ ইউনিট গঠন করে কাজ শুরু করেছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তদন্ত এখনও চলছে। এই চক্রের আরও সদস্য এবং মাস্টারমাইন্ডদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়েছে।সাধারণ মানুষের মধ্যে এই খবর ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেকে বলছেন, “অনলাইনে এত সহজে প্রতারিত হচ্ছি আমরা।
পুলিশ যদি এভাবে কঠোর অভিযান চালায়, তাহলে হয়তো কিছুটা স্বস্তি পাব।” তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, সাইবার ফ্রড থেকে বাঁচতে সাধারণ নাগরিকদেরও সচেতন হতে হবে। অচেনা লিঙ্কে ক্লিক না করা, অজানা নম্বর থেকে আসা কলের ফাঁদে না পড়া এবং ব্যাঙ্কের লেনদেন নিয়মিত চেক করা খুবই জরুরি।
গুজরাট পুলিশের এই সাফল্য দেশের অন্যান্য রাজ্যের পুলিশ বাহিনীকেও অনুপ্রাণিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে। সাইবার অপরাধ আজকাল শুধু একটি রাজ্যের সমস্যা নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত। তাই কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় রেখে এ ধরনের চক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠছে।



















