কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসক সমাজে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। (Shantanu Sen)একজন ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট চিকিৎসক সোশ্যাল মিডিয়ায় বিজেপির পতাকা ও টুপি পরে পোস্ট করে জানিয়েছেন যে, যে কোনো রোগী ‘জয় শ্রীরাম’ বললে তার চিকিৎসায় ৫০০ টাকা ছাড় দেওয়া হবে। এই পোস্ট ঘিরে রাজ্যজুড়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন রাজ্যসভা সাংসদ ও চিকিৎসক ডা. শান্তনু সেন এই ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করে বলেছেন, “চিকিৎসা পেশা একটি মহৎ পেশা।
প্রত্যেক চিকিৎসককে শপথ নিতে হয় যে, তিনি সব রোগীকে সমান চোখে দেখবেন। ধর্ম, রাজনীতি, জাতি-কিছুই দেখবেন না। এই পেশাকে রাজনৈতিক বা ধর্মীয় লেন্স দিয়ে দেখা উচিত নয়।” তিনি আরও বলেন, “যে চিকিৎসক বিজেপির পতাকা ও টুপি পরে ‘জয় শ্রীরাম’ বললে ৫০০ টাকা ছাড় দেবেন বলে ঘোষণা করেছেন, তা চিকিৎসা পেশার মর্যাদার পরিপন্থী। ডাক্তাররা রোগীদের মধ্যে কোনো ধরনের বৈষম্য করতে পারেন না। আমি এর তীব্র বিরোধিতা করছি।” সন্তনু সেন জানিয়েছেন, এই বিষয়ে আজই চিকিৎসকদের একটি বৈঠক ডেকেছেন, যেখানে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
আরও দেখুনঃ সিলিন্ডারের কালোবাজারি রুখতে নয়া পদক্ষেপ নিল মোদী সরকার
ঘটনাটি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর থেকেই চিকিৎসক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেক চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষ বলছেন, হাসপাতাল বা চেম্বারে রোগীদের ধর্মীয় স্লোগান দেওয়ার শর্তে চিকিৎসা দেওয়া বা ছাড় দেওয়া একেবারেই অনুচিত। একজন প্রবীণ চিকিৎসক বলেন, “আমরা হোয়াইট কোট পরে রোগীর সেবা করি, কোনো দলের পতাকা বা ধর্মীয় প্রতীক নয়। রোগী যে ধর্মেরই হোক, তাকে সমান চিকিৎসা দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
এ ধরনের পোস্ট পুরো পেশাকে কলঙ্কিত করে।”রাজ্যের বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠনও এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তারা মনে করেন, চিকিৎসা পেশায় রাজনৈতিক বা ধর্মীয় পরিচয় প্রকাশ করে রোগীদের আলাদা করা শুধু নীতিবিরোধী নয়, চিকিৎসকদের পেশাদারিত্বকেও প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়। শান্তনু সেনের মতো অনেকেই বলছেন, এমন ঘটনা যদি বাড়তে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসকদের প্রতি আস্থা কমে যাবে।



















