নয়াদিল্লি: সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (CRPF)-কে নিয়ে দেওয়া বিতর্কিত বক্তব্যের প্রতিবাদে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee)বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিনীত জিন্দল মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে “সেনাবাহিনীর জওয়ানদের অপমানজনক” ও “হিংসা উস্কানিমূলক” বলে অভিহিত করে পশ্চিমবঙ্গের ডিজিপি এবং নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, এই বক্তব্যের জন্য ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর বিভিন্ন ধারায় এফআইআর দায়ের করা উচিত।
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন যে, উত্তরপ্রদেশ থেকে অযোধ্যা হয়ে প্রায় ২০০ গাড়িতে সিআরপিএফ জওয়ানদের বাংলায় পাঠানো হচ্ছে মানুষকে অত্যাচার করার জন্য”। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আইনজীবী বিনীত জিন্দলের অভিযোগ, এই ধরনের বক্তব্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের মানসিকভাবে আঘাত করে এবং সাধারণ মানুষকে তাদের বিরুদ্ধে উস্কানি দেয়।
আরও দেখুনঃশুরু হচ্ছে জাতীয় স্তরের সার্ফিং এবং স্ট্যান্ড-আপ প্যাডলিং চ্যাম্পিয়নশিপ, প্রথমবার আয়োজক আন্দামান
তিনি বলেন, “দেশের সেনা ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশের সেবা করেন। তাঁদের এভাবে অপমান করা এবং বাংলার মানুষকে তাঁদের বিরুদ্ধে উত্তেজিত করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”বিনীত জিন্দল তাঁর অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্য বিএনএস-এর ১৫২, ১৯২, ১৯৬ এবং ৩৫৩ ধারার অধীনে অপরাধের আওতায় পড়ে। এই ধারাগুলোতে রাষ্ট্রদ্রোহ, শত্রুতা সৃষ্টি, হিংসা উস্কানি ও জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো অভিযোগ আনা যায়।
তিনি আরও দাবি করেছেন, নির্বাচন কমিশনের উচিত মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট লঙ্ঘনের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া। কারণ নির্বাচনী প্রচারে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রাজনৈতিকভাবে আক্রমণ করা নির্বাচনী নিয়মের পরিপন্থী।এই অভিযোগের পর রাজনৈতিক মহলে উত্তেজনা বেড়েছে। বিজেপি নেতারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যকে “দেশবিরোধী” ও “জওয়ানদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা” বলে সমালোচনা করেছেন।
তাঁরা বলছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করার জন্য মোতায়েন করা হয়। নির্বাচন কমিশনও স্পষ্ট জানিয়েছে যে, প্রায় ২.৪ লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করছে এবং কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই।অন্যদিকে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা এই অভিযোগকে “রাজনৈতিক প্রতিহিংসা” বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
তাঁরা দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনও বাহিনীর অপমান করেননি, বরং কেন্দ্রের “রাজনৈতিক চক্রান্ত” নিয়ে সতর্ক করেছেন। তবে আইনজীবী বিনীত জিন্দলের অভিযোগপত্রে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, এই বক্তব্য শুধু জওয়ানদের অপমান নয়, পুরো দেশের জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা।



















