তেহরান: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবার প্রযুক্তি দুনিয়াকেও গ্রাস করতে শুরু করেছে। (IRGC attack)ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) স্বীকার করেছে যে তারা বাহরাইনে অবস্থিত অ্যামাজনের ক্লাউড কম্পিউটিং সেন্টারে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। এই ঘটনা অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪-এর ৯০তম ওয়েভের তৃতীয় পর্যায়ের অংশ বলে ইরানি রাষ্ট্রীয় মিডিয়া জানিয়েছে।বৃহস্পতিবার রাতে বাহরাইনের রাজধানী মানামার কাছে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস (এডব্লিউএস)-এর একটি বড় ডেটা সেন্টারে আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, একটি বাণিজ্যিক স্থাপনায় আগুন নেভানোর কাজ চলছে। পরে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস সূত্রে জানা যায়, এটি অ্যামাজনের ক্লাউড অপারেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আইআরজিসি তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলেছে, তারা এই সুবিধাটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে কারণ এটি আমেরিকার সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যকলাপকে সমর্থন করে।
আরও দেখুনঃ IPL 2026: ঘরের মাঠে লজ্জার হার কেকেআরের, ৬৫ রানে জিতল হায়দ্রাবাদ দল
মার্চের শেষ দিকে আইআরজিসি ১৮টি আমেরিকান আইটি কোম্পানিকে হুমকি দিয়ে বলেছিল ইনটেল, সিসকো, মাইক্রোসফট, গুগল, অ্যাপল, মেটা, টেসলাসহ আরও অনেক কোম্পানির সুবিধা যদি যুদ্ধে সাহায্য করে, তাহলে সেগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হবে। অ্যামাজনের বাহরাইন সেন্টার এই তালিকায় ছিল। আইআরজিসি বলেছে, “যদি হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করা হয় এবং ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চলতে থাকে, তাহলে পরবর্তী কোম্পানিগুলোকে আরও কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।”
এই হামলার ফলে বাহরাইনের ক্লাউড সার্ভিস সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। অ্যামাজন এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করেনি, তবে সূত্র জানিয়েছে যে ডেটা সেন্টারে আগুন লেগে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হয়েছে। এটি এই অঞ্চলে অ্যামাজনের দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডেটা সেন্টারেও ইরানি ড্রোন হামলা হয়েছিল, যা স্থানীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটিয়েছিল।
এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। এতদিন যুদ্ধ সীমাবদ্ধ ছিল সামরিক ঘাঁটি, এয়ার বেস এবং তেল স্থাপনায়। কিন্তু এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় টেক কোম্পানির বাণিজ্যিক সুবিধা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি শুধু ইরান-ইসরায়েল-আমেরিকার যুদ্ধ নয়, বরং সাইবার ও ডিজিটাল যুদ্ধেরও সূচনা।



















