নয়াদিল্লি: সিসিটিভি বিক্রিতে বড়সড় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মোদী সরকার। (CCTV sale ban)ভারত সরকারের একটি নতুন নিয়ম আগামী ১ এপ্রিল থেকে সারা দেশের সিসিটিভি ক্যামেরা বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে চলেছে। ১ এপ্রিল থেকে শুধুমাত্র যেসব সিসিটিভি ক্যামেরা সরকারি নির্ধারিত ‘এসেনশিয়াল রিকোয়ারমেন্টস’ (ER) মেনে STQC এবং BIS সার্টিফিকেশন পেয়েছে, সেগুলোই বিক্রি করা যাবে। অন্যথায় কোনো অননুমোদিত বা অসার্টিফায়েড ক্যামেরা বিক্রি, আমদানি বা ইনস্টল করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ হবে।
এই পদক্ষেপের ফলে চীনা ব্র্যান্ডগুলো যেমন Hikvision, Dahua Technology-এর মতো জনপ্রিয় কোম্পানিগুলোর অনেক মডেল বাজার থেকে বাদ পড়তে পারে, যেখানে TP-Link-এর কিছু মডেল ইতিমধ্যে সার্টিফিকেশন পেয়েছে।এই নিয়মের পিছনে মূল উদ্দেশ্য হলো জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা। সরকারের আশঙ্কা, বিদেশি বিশেষ করে চীনা চিপসেট ব্যবহার করা ক্যামেরাগুলোতে সাইবার ঝুঁকি, ডেটা চুরি বা গোয়েন্দাগিরির সম্ভাবনা রয়েছে।
তাই ক্যামেরার হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার এমনকি সোর্স কোড পর্যন্ত ভারতীয় ল্যাবে পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, চীনা কোম্পানিগুলো এই কঠোর শর্ত পূরণ করতে অনিচ্ছুক বা অসুবিধায় পড়ছে। ফলে তাদের পণ্যগুলোর সার্টিফিকেশন পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশীয় সিসিটিভি নির্মাতাদের জন্য সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে ভারতের সিসিটিভি বাজারে দেশীয় কোম্পানিগুলোর শেয়ার ৮০ শতাংশেরও বেশি। CP Plus, Matrix Comsec, Sparsh-এর মতো ব্র্যান্ডগুলো ইতিমধ্যে STQC সার্টিফিকেশন নিয়ে বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই নিয়ম পুরোপুরি ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগকে শক্তিশালী করবে। আগে বাজারের বড় অংশ চীনা আমদানি নির্ভর ছিল, কিন্তু এখন স্থানীয় উৎপাদন এবং স্থানীয় উপাদানের ব্যবহার বাড়বে। সরকার চায় যে ক্যামেরার অন্তত ২৫-৪৫ শতাংশ উপাদান দেশেই তৈরি হোক।
সাধারণ মানুষের জন্য এই পরিবর্তনের অর্থ কী? যারা বাড়ি, দোকান বা অফিসে সিসিটিভি লাগাতে চান, তাদের এখন থেকে শুধুমাত্র সার্টিফায়েড প্রোডাক্ট কিনতে হবে। দাম হয়তো কিছুটা বাড়তে পারে, কিন্তু নিরাপত্তা অনেক বেশি নিশ্চিত হবে। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অসার্টিফায়েড ক্যামেরা হ্যাক হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং জাতীয় নিরাপত্তা উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক। এই নিয়মের ফলে বাজার থেকে নিম্নমানের চীনা প্রোডাক্ট কমে যাবে এবং গ্রাহকরা আরও নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড পাবেন।



















