নৌকায় চেপে গঙ্গাপাড়ের মন্দিরে চুরি, গ্রেফতার ৩ মহম্মদ-সহ ৪

ganges-temple-theft-howrah-hooghly-boat-gang-arrested

কলকাতা: হাওড়া-হুগলির গঙ্গা তীরবর্তী এলাকায় এক অভিনব চুরির চক্র ফাঁস হয়েছে। (temple theft)নৌকা নিয়ে রাতের অন্ধকারে গঙ্গায় ঘুরে ঘুরে বিভিন্ন মন্দির থেকে বিগ্রহের গয়না, প্রণামীর টাকা, পূজার বাসনপত্রসহ নানা মূল্যবান জিনিস চুরি করে আসছিল একদল যুবক। পুলিশের তৎপরতায় সেই চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম মহম্মদ রনিশ সর্দার, মহম্মদ তাজমুল, মহম্মদ জহিদুল এবং শেখ নুর হাসান। শুক্রবার তাদের আলিপুরের মুখ্য বিচার বিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে পেশ করা হলে বিচারক পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই চারজনের কাজের ধরন ছিল একেবারেই অন্যরকম। রাত গভীর হলে তারা একটি ছোট নৌকা নিয়ে গঙ্গায় ভেসে পড়ত। নদীর বিভিন্ন ঘাটের কাছে অবস্থিত মন্দিরগুলো তাদের টার্গেট ছিল। যেসব মন্দিরে রাতে পাহারাদার কম থাকে বা কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল, সেখানে নৌকা ভিড়িয়ে চুপিসারে ঢুকে পড়ত তারা। বিগ্রহের গলায় ঝোলানো সোনা-রুপোর গয়না, ভক্তদের দেওয়া প্রণামীর টাকা, পূজার থালা-বাসন, এমনকি মন্দিরের ছোটখাটো মূল্যবান জিনিসপত্রও হাতিয়ে নিত।

   

আরও দেখুনঃ যুদ্ধবিরতি ভেঙে মাঝরাতে ইরানের ইস্পাত কারখানায় হামলা আমেরিকার

তারপর নৌকায় চেপে আবার গঙ্গার অন্ধকারে মিলিয়ে যেত। এভাবে বেশ কয়েকটি মন্দির থেকে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ।স্থানীয় মন্দির কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, প্রথমে তারা ভেবেছিলেন হয়তো কোনো বন্যপ্রাণী বা অসামাজিক লোকজন ঢুকে ক্ষতি করেছে। কিন্তু যখন বারবার একই ধরনের চুরি ঘটতে থাকে, তখনই সন্দেহ হয়। কয়েকটি মন্দিরে সিসিটিভি ফুটেজে নৌকার আভাস পাওয়া যায়।

সেই সূত্র ধরে হাওড়া ও হুগলি পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা সূত্রে খবর পেয়ে একটি অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে চুরি করা কিছু জিনিসপত্রও উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জেনেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই কাজ করে আসছিল। গঙ্গার স্রোত ও অন্ধকারকে কাজে লাগিয়ে তারা নৌকা চালিয়ে বিভিন্ন ঘাটে পৌঁছাত। কখনো কখনো দুই-তিনটি মন্দিরে একই রাতে চুরি করে ফিরত। চুরির মাল বিক্রি করে সেই টাকায় তাদের চলত। পুলিশ বলছে, এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত থাকতে পারে। তাদের খোঁজ চলছে।