যুদ্ধবিরতি ভেঙে মাঝরাতে ইরানের ইস্পাত কারখানায় হামলা আমেরিকার

us-israel-airstrike-iran-steel-plants-nuclear-sites-escalation

তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আগুন আরও তীব্র হয়েছে। (US Israel airstrike)ইসরায়েল এবং আমেরিকা ইরানের ভিতরে নতুন করে রাতারাতি বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, ইসরায়েল দেশের দুটি সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানা, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বেসামরিক নিউক্লিয়ার স্থাপনাসহ বিভিন্ন পরিকাঠামোয় আঘাত করেছে। এই হামলার পর ইরান কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, এর জন্য ইসরায়েলকে ‘ভারী মূল্য’ দিতে হবে।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার কথা বলছিলেন এবং কিছু দিনের জন্য শক্তি পরিকাঠামোয় হামলা স্থগিত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু তার মধ্যেই ইসরায়েলের বিমানবাহিনী নতুন করে অভিযান চালিয়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) নিশ্চিত করেছে যে, তারা কেন্দ্রীয় ইরানের আরাকের হেভি ওয়াটার রিয়্যাক্টরসহ দুটি নিউক্লিয়ার স্থাপনায় আঘাত করেছে।

   

ইরানের দাবি, এসব স্থাপনা বেসামরিক নিউক্লিয়ার উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।ইরানের বিদেশমন্ত্রী আরাঘচি সামাজিক মাধ্যমে একটি পোস্টে লিখেছেন, “ইসরায়েল দেশের দুটি বৃহত্তম ইস্পাত কারখানা, একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং বেসামরিক নিউক্লিয়ার সাইটসহ অন্যান্য পরিকাঠামোয় আঘাত করেছে।” তিনি আরও বলেছেন যে, এই হামলা ট্রাম্পের ঘোষিত ১০ দিনের বিরতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ইরানের পক্ষ থেকে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, এর জবাবে তারা ‘ভারী মূল্য’ আদায় করবে।

ইরানি সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, হামলায় ইস্পাত কারখানাগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা দেশের শিল্প উৎপাদনে বড় ধাক্কা দিতে পারে।এই অঞ্চলে যুদ্ধ শুরু হয়েছে গত ফেব্রুয়ারি মাসে, যখন আমেরিকা ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও নিউক্লিয়ার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করে। সেই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলি খামেনির মৃত্যুর খবরও এসেছিল। তারপর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পাল্টাপাল্টি চলছে। ইরান পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, তারা ইরানের নিউক্লিয়ার কর্মসূচি এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ক্ষমতা ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।