কলকাতা: ময়দানে ফুটবলে (Kolkata Football) বড় ক্লাবের পাশাপাশি নীরবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে শহরের একাধিক ছোট দল। রেনবৌ এসি, পাঠচক্র, সাউদার্ন সমিতি কিংবা ক্যালকাটা পুলিশ ক্লাব, এই ক্লাবগুলিই আসলে বাংলার ফুটবলের ভিত শক্ত করে রেখেছে বছরের পর বছর।
ময়দান-এর সবুজ ঘাসে প্রতিদিন অনুশীলনে নামে এই দলগুলো। সীমিত সুযোগ-সুবিধা নিয়েই তারা গড়ে তোলে নতুন প্রজন্মের ফুটবলার। বড় ক্লাবের মতো বিপুল অর্থ বা আধুনিক পরিকাঠামো না থাকলেও তাদের জেদ আর পরিশ্রমে কোনও খামতি নেই।
এই ক্লাবগুলোর প্রধান সমস্যা অর্থসংকট। স্পনসর জোগাড় করা কঠিন, ফলে খেলোয়াড়দের ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা দেওয়াও অনেক সময় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক ফুটবলার নিজের খরচেই বুট, জার্সি কিংবা যাতায়াতের ব্যবস্থা করেন। ক্লাব কর্মকর্তারাও ব্যক্তিগত উদ্যোগে দল চালানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু তা সবসময় যথেষ্ট নয়।
পরিকাঠামোর অভাবও স্পষ্ট। উন্নত প্রশিক্ষণ সরঞ্জাম, ফিটনেস সাপোর্ট কিংবা চিকিৎসা পরিষেবা—এসবই বেশিরভাগ ছোট ক্লাবের কাছে বিলাসিতা। তবুও কোচদের অভিজ্ঞতা আর নিষ্ঠার উপর ভর করেই এগিয়ে চলে দলগুলো। তারা জানে, এখান থেকেই উঠে আসতে পারে আগামী দিনের বড় তারকা।
এই ক্লাবগুলোর আরেকটি বড় ভূমিকা হল প্রতিভা তুলে আনা। বহু নামী ফুটবলার তাঁদের কেরিয়ার শুরু করেছিলেন এমনই ছোট ক্লাব থেকে। সেই ধারাই এখনও বজায় রেখেছে রেনবৌ বা সাউদার্ন সমিতির মতো দলগুলো। স্থানীয় টুর্নামেন্টে ভালো পারফরম্যান্সই অনেক সময় বড় ক্লাবের দরজা খুলে দেয় তরুণদের জন্য।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ক্লাবগুলোই আসলে বাংলার ফুটবলের প্রাণ। এদের টিকিয়ে রাখা মানেই ভবিষ্যতের ফুটবলকে বাঁচিয়ে রাখা। তাই প্রয়োজন আরও বেশি আর্থিক সহায়তা, উন্নত পরিকাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
সব বাধা পেরিয়েও এই ক্লাবগুলোর স্বপ্ন থেমে নেই। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেই তারা লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। কারণ তাদের বিশ্বাস, ছোট ক্লাব থেকেই একদিন জন্ম নেবে বড় ফুটবলার, যিনি আবার নতুন করে গৌরব এনে দেবেন বাংলার ফুটবলে।




















