হঠাৎ যুদ্ধ বিরতির ইঙ্গিত ট্রাম্পের! বিশ্ববাজারে কমল তেলের দাম

ওয়াশিংটন: পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে আচমকা কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত। (Iran Israel war)প্রায় ২৪ দিন ধরে চলতে থাকা ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের আবহে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার আভাস দিলেন…

Trump Iran War Update

ওয়াশিংটন: পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝে আচমকা কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত। (Iran Israel war)প্রায় ২৪ দিন ধরে চলতে থাকা ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের আবহে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার আভাস দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর সাম্প্রতিক মন্তব্যে আন্তর্জাতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে তবে কি অবশেষে থামতে চলেছে যুদ্ধ?

নিজস্ব সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ট্রাম্প জানান, ইরানের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলিতে আপাতত পাঁচ দিনের জন্য কোনও হামলা চালানো হবে না। পাশাপাশি তিনি দাবি করেছেন, গত দু’দিন ধরে ইরানের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা চলছে। এই ঘোষণার পরই আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে এই কি যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ? তবে বড় কথা এই যে ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরেই বিশ্ব বাজারে কমল তেলের দাম। ব্যারেল প্রতি ১০ % কমছে অপরিশোধিত তেলের দাম।

আরও দেখুনঃ ভোটের আগে বড় সিদ্ধান্ত কমিশনের, দূরদর্শন ও আকাশবাণীতে বিনামূল্যে প্রচারের সুযোগ

যদিও পরিস্থিতি এখনও জটিল। একদিকে ইরান লাগাতার মিসাইল হামলা চালাচ্ছে ইজরায়েলের দিকে, অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে ইজরায়েল ও আমেরিকা। সংঘাতের এই টানাপোড়েনে গোটা পশ্চিম এশিয়া কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে।

এই উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত তেল পরিবহণের এই জলপথের উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চাপানউতোর চলছে। সম্প্রতি ইরান ঘোষণা করেছে, এই প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী কিছু জাহাজের থেকে ২ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত চার্জ নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইরানের তরফে আরও কড়া হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যদি তাদের উপর হামলা অব্যাহত থাকে, তাহলে সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে হরমুজ প্রণালী। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহে মারাত্মক সংকট দেখা দিতে পারে।

ইতিমধ্যেই তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্ববাজারে। একসময় অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১৪ ডলার ছাড়িয়ে গিয়েছিল। যদিও ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির ইঙ্গিতের পর কিছুটা দাম কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তবুও বাজারে অস্থিরতা কাটেনি, কারণ পরিস্থিতি যে কোনও মুহূর্তে আবারও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

ভারতেও এই পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এবং সরবরাহ ব্যবস্থাকে মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi জরুরি বৈঠক করেছেন মন্ত্রিসভার সঙ্গে। সূত্রের খবর, রান্নার গ্যাসের কালোবাজারি ও মজুতদারি রুখতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত যেহেতু তেলের বড় আমদানিকারক দেশ, তাই আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। ফলে পশ্চিম এশিয়ার এই সংঘাত যত দীর্ঘস্থায়ী হবে, ততই বাড়বে চাপ।