কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর সময়সূচি ঘোষণার পর রাজ্যজুড়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। নির্বাচন কমিশন (West Bengal election) জানিয়েছে, ২৯৪ আসনের ভোট হবে দু’দফায় প্রথম দফা ২৩ এপ্রিল (১৫২ আসন) এবং দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল (১৪২ আসন)। ফল ঘোষণা ৪ মে। এবারের এই কম দফার সিদ্ধান্ত ২০২১-এর আট দফার তুলনায় বড় পরিবর্তন।
কমিশনের মতে, নিরাপত্তা, লজিস্টিকস এবং রাজ্যের পরিস্থিতি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার বলেছেন, দীর্ঘ আলোচনার পর এই সংখ্যায় নামানো হয়েছে যাতে সবার জন্য সুবিধাজনক হয়।প্রথম দফা (২৩ এপ্রিল, ১৫২ আসন) এই দফায় মূলত উত্তরবঙ্গ, পশ্চিমাঞ্চল এবং কিছু দক্ষিণাঞ্চলের জেলা অন্তর্ভুক্ত। বিস্তারিত জেলাভিত্তিক আসন সংখ্যা নিম্নরূপ
পূর্ব মেদিনীপুর ১৬ বিধানসভা আসন, পশ্চিম মেদিনীপুর, ১৫ বিধানসভা আসন, পুরুলিয়া ৯ বিধানসভা আসন, কোচবিহার: ৯ বিধানসভা আসন
আলিপুরদুয়ার: ৫ বিধানসভা আসন, জলপাইগুড়ি: ৭ বিধানসভা আসন, দার্জিলিং: ৫ বিধানসভা আসন, কালিম্পং: ১ বিধানসভা আসন, উত্তর দিনাজপুর: ৯ বিধানসভা আসন, দক্ষিণ দিনাজপুর: ৬ বিধানসভা আসন, মালদা: ১২ বিধানসভা আসন, মুর্শিদাবাদ: ২২ বিধানসভা আসন
এই দফায় উত্তরবঙ্গের চা-বাগান অঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা এবং মুর্শিদাবাদের মতো সংখ্যালঘু-অধ্যুষিত জেলায় ভোট হবে। এখানে তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি বলে পরিচিত, কিন্তু বিজেপি ২০২১-এ উত্তরবঙ্গে ভালো ফল করেছিল। পুরুলিয়া-মেদিনীপুরের আদিবাসী অঞ্চলে ভোটের প্রভাব পড়তে পারে।দ্বিতীয় দফা (২৯ এপ্রিল, ১৪২ আসন): এই দফায় দক্ষিণবঙ্গের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, কলকাতা মহানগর এবং শিল্পাঞ্চল অন্তর্ভুক্ত। জেলাভিত্তিক নদিয়া: ১৭ বিধানসভা আসন , উত্তর ২৪ পরগনা: ৩৩ বিধানসভা আসন, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ৩১ বিধানসভা আসন, কলকাতা: ১১ বিধানসভা আসন, হাওড়া: ১৬ বিধানসভা আসন, হুগলি: ১৮ বিধানসভা আসন।
এই দফায় কলকাতা, হাওড়া-হুগলির শহুরে ভোটার, সুন্দরবন অঞ্চল এবং নদিয়া-২৪ পরগনার মতো জেলায় ভোট। এখানে তৃণমূলের শক্তি সবচেয়ে বেশি, কিন্তু বিজেপি শহরাঞ্চলে প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা করছে। উত্তর ২৪ পরগনা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মোট ৬৪ আসন, যা নির্বাচনের ফলাফলে বড় ভূমিকা নিতে পারে।
এই দফা-বিভাজন দেখিয়েছে কমিশনের কৌশল প্রথম দফায় উত্তর ও পশ্চিমের গ্রামীণ-আদিবাসী অঞ্চল, দ্বিতীয় দফায় দক্ষিণের শহর-শিল্প এলাকা। মডেল কোড অফ কন্ডাক্ট কার্যকর হয়েছে, তাই সরকারি প্রকল্প উদ্বোধন বন্ধ। কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হবে, বিশেষ করে সংবেদনশীল এলাকায়।




















