ইরাকের ইরান-সমর্থিত শক্তিশালী মিলিশিয়া গোষ্ঠী কাতাইব হিজবুল্লাহর (Ahmed Mohsen)সেক্রেটারি জেনারেল আহমেদ মোহসেন ফারাজ আল-হুমাইদাওয়ি মার্কিন বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাকে আরও তীব্র করে তুলেছে। গোষ্ঠীর মিডিয়া চ্যানেল ও টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্ট থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, তিনি একটি মার্কিন ড্রোন বা যুদ্ধবিমানের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। হামলার স্থান ও সময় নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করলেও, সূত্র বলছে এটি ইরাকের কোনো একটি গোপন স্থানে ঘটেছে। সম্ভবত বাগদাদের কাছাকাছি বা দক্ষিণাঞ্চলে।
এই হামলা আমেরিকার ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’-এর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ বলে মনে করা হচ্ছে।আহমেদ আল-হুমাইদাওয়ি কাতাইব হিজবুল্লাহর দীর্ঘদিনের নেতা। ২০০৭ সাল থেকে তিনি গোষ্ঠীতে যুক্ত, ইরানের আইআরজিসি থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পক্ষে লড়াই করেছেন, ইরাকে মার্কিন বাহিনীর বিরুদ্ধে একাধিক হামলার পরিকল্পনা করেছেন।
আরও দেখুনঃ পাক গুপ্তচর ইউটিউবার জ্যোতির জামিন খারিজ
২০২০ সালে আমেরিকা তাকে ‘স্পেশালি ডেজিগনেটেড গ্লোবাল টেররিস্ট’ ঘোষণা করে। গোষ্ঠীটি পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (হাশদ আশ-শাবি)-এর অংশ হলেও, তারা স্বাধীনভাবে কাজ করে এবং ইরানের ‘অ্যাক্সিস অফ রেজিস্ট্যান্স’-এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তারা ইরাক থেকে মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়ে আসছিল।মাত্র দু’দিন আগে, হুমাইদাওয়ি একটি বিবৃতিতে বলেছিলেন, “আমেরিকা ও ইসরায়েলকে কবরস্থান বানিয়ে দেব।”
এই হুমকি গাজা ও লেবাননে চলমান সংঘাতের প্রতিক্রিয়ায় ছিল। তিনি বলেছিলেন, ইরাকের মাটি থেকে প্রতিরোধ যোদ্ধারা আমেরিকান সেনাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর হবে। কিন্তু সেই হুমকি দেওয়ার পরপরই মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক বাহিনী তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। এতে তার মৃত্যু হয়েছে। গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, “আমাদের নেতা শহীদ হয়েছেন, কিন্তু প্রতিরোধ অব্যাহত থাকবে।” তারা প্রতিশোধের হুমকি দিয়েছে, যা ইরাক ও আশপাশের দেশগুলোতে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে।
আমেরিকা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার দায় স্বীকার করেনি, তবে পেন্টাগনের সূত্র বলছে, এটি ‘আত্মরক্ষামূলক’ অভিযানের অংশ। গত কয়েকমাসে ইরাক ও সিরিয়ায় ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর ওপর একাধিক হামলা হয়েছে জর্ডানে তিন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার পর থেকে এই অভিযান জোরদার হয়েছে। হুমাইদাওয়ির মৃত্যু কাতাইব হিজবুল্লাহর জন্য বড় ধাক্কা। তিনি গোষ্ঠীর সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিতেন। তার পরিবারের সদস্যরাও গোষ্ঠীতে গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন।



















