পঞ্জাব: হরিয়ানার হিসারের ট্রাভেল ভ্লগার জ্যোতি মালহোত্রা। (Jyoti Malhotra)যিনি পাকিস্তানের গুপ্তচর অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। ‘ট্রাভেল উইথ জো’ নামে একটি ইউটিউব চ্যানেল চালাতেন তিনি।পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার জন্য গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। সম্প্রতি পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্ট তার জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছে। বিচারপতি সূর্য প্রতাপ সিং-এর বেঞ্চ ৭ মার্চ এই রায় দেন। আদালত বলেছে, প্রাথমিক প্রমাণ প্রচুর রয়েছে চ্যাট মুছে ফেলার চেষ্টা, সংবেদনশীল তথ্য পাকিস্তানি গোয়েন্দা অপারেটিভদের কাছে পাঠানো।
এসবের ভিত্তিতে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩-এর ধারা ৪-এর অধীনে অপরাধের অনুমান স্পষ্ট। আদালতের মতে, রেকর্ডে থাকা উপাদানগুলো তার হেফাজত বজায় রাখার যথেষ্ট কারণ।জ্যোতি মালহোত্রা ২০২৫ সালের মে মাসে হিসার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন। অভিযোগ, তিনি পাকিস্তান হাইকমিশনের এক কর্মী ইহসান-উর-রহিম ওরফে ড্যানিশের সঙ্গে ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে যোগাযোগ রাখছিলেন।
আরও দেখুনঃ নৌসেনায় যোগ দেবে মেড-ইন-ইন্ডিয়া INS তারাগিরি, নতুন তারিখ ঘোষণা
ড্যানিশকে পরে ভারত থেকে বহিষ্কার করা হয় গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে। পুলিশ বলছে, জ্যোতি পাকিস্তানে একাধিকবার গিয়েছেন তার শেষ সফর মার্চ ২০২৫-এ। তার ভিডিওতে পাকিস্তানের বিভিন্ন জায়গা, লাহোর, কাটাস রাজ মন্দির ইত্যাদি দেখানো হয়েছে। কিন্তু পুলিশের দাবি, এসবের আড়ালে সেনসিটিভ সাইটের ছবি, ভিডিও বা তথ্য সংগ্রহ করে পাঠিয়েছেন পাকিস্তানি অপারেটিভদের কাছে। ফরেনসিক রিপোর্টে ডিলিট করা চ্যাট, ছবি রিকভার হয়েছে।
এছাড়া অন্তত চারজন পাকিস্তানি অপারেটিভের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে।আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, শেয়ার করা তথ্য অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের নিষিদ্ধ শ্রেণিতে পড়ে। তার আচরণ থেকে অপরাধের অনুমান উঠে আসে। কনফেশনাল স্টেটমেন্টের ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার হয়েছে। হাইকোর্ট বলেছে, জামিন দিলে তদন্ত বাধাগ্রস্ত হতে পারে, ডিজিটাল প্রমাণ নষ্ট করা যেতে পারে বা জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এর আগে হিসারের সেশনস কোর্ট, অতিরিক্ত সেশনস জজ ড. পরমিন্দর কৌর-এর আদালতও একইভাবে জামিন খারিজ করেছিলেন। তারা বলেছিলেন, জামিনে মুক্তি দিলে তদন্তে বাধা পড়বে, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে হেফাজত জরুরি।জ্যোতির আইনজীবী রবীন্দর সিং ধুল্ল যুক্তি দিয়েছিলেন যে, তার পেশা ক্যামেরা নিয়ে ভ্রমণ ভিডিও আপলোড করা এতে গুপ্তচরবৃত্তির কোনো ভিত্তি নেই।
কোনো ক্লাসিফায়েড তথ্য অ্যাক্সেস বা ইচ্ছাকৃতভাবে নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার প্রমাণ নেই। তিনি তার ব্যক্তিগত পরিস্থিতির কথাও তুলেছিলেন বয়স্ক বাবা ও অসুস্থ কাকার দেখাশোনার দায়িত্ব তার। কিন্তু আদালত এসব যুক্তি গ্রহণ করেনি। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এটি একটি বড় নেটওয়ার্কের অংশ পাঞ্জাব, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশে ১২ জনের মতো গ্রেফতার হয়েছে।



















