কলকাতা: সিভি আনন্দ বোসের আকস্মিক ইস্তফার পর রাজ্য রাজনীতিতে যখন তোলপাড় চলছে, ঠিক সেই আবহেই পশ্চিমবঙ্গের নয়া রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন রবীন্দ্র নারায়ণ রবি। বুধবার রাতেই কলকাতায় পা রেখেছেন তিনি। নবান্ন সূত্রে খবর, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় তাঁর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে।
শপথগ্রহণে চাঁদের হাট
রাজভবনের এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পাশাপাশি, এই হাই-প্রোফাইল অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেও। এছাড়াও রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী এবং বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন বলে খবর।
বোসের ইস্তফা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা RN Ravi West Bengal Governor
সিভি আনন্দ বোসের ইস্তফাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতি সরগরম। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চাপ সৃষ্টি করে বোসকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। যদিও কেন্দ্রের তরফ থেকে এই দাবি সম্পূর্ণ খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। আর এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই এবার রাজভবনের রাশ ধরছেন আর. এন. রবি।
কে এই আর. এন. রবি? ফিরে দেখা তাঁর বর্ণময় কেরিয়ার
বিহারের পাটনায় জন্ম রবীন্দ্র নারায়ণ রবির। ছোটবেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী রবি ১৯৭৪ সালে পদার্থবিদ্যায় স্নাতকোত্তর পাশ করেন। এরপর সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সসম্মানে উত্তীর্ণ হয়ে যোগ দেন ভারতীয় পুলিশ সার্ভিসে (IPS)।
আইপিএস হিসেবে কেরিয়ারের মধ্যগগনে তিনি সিবিআই (CBI)-এর দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে সামলেছেন। ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো বা আইবি (IB)-তে কাজ করার সময় জম্মু-কাশ্মীরের অভ্যন্তরীণ সমস্যা মেটানো এবং দেশের একাধিক মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক স্তরে সন্ত্রাসবাদ দমনের জন্য একাধিক অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য আদানপ্রদানের ক্ষেত্রেও তাঁর কাজের সুনাম রয়েছে। ২০১২ সালে চাকরি থেকে অবসর নেন এই দুঁদে অফিসার।
অবসরের পর ‘সেকেন্ড ইনিংস’
অবসরের পর ২০১৪ সালে তাঁকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ‘নাগা শান্তি আলোচনা’-র জন্য নিয়োগ করা হয়। এই সঙ্কটজনক পরিস্থিতি সামলাতে তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। এরপর ২০১৮ সালে খোদ জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের ডেপুটি হিসেবেও নিযুক্ত হয়েছিলেন তিনি।
রাজ্যপাল হিসেবে বিতর্কিত ট্র্যাক রেকর্ড
২০১৯ সালে তাঁকে প্রথমে নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল করা হয়। এরপর তিনি দায়িত্ব পান তামিলনাড়ুর। আর সেখান থেকেই শুরু বিতর্কের। ডিএমকে (DMK) শাসিত তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিনের সঙ্গে তাঁর বারবার সংঘাত বেধে যায়। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, ২০২৩ সালে স্ট্যালিন রাজ্যপালের চা-চক্র পর্যন্ত বয়কট করেন এবং তাঁকে ‘তামিলনাড়ু বিরোধী’ বলে দাগিয়ে দেন।
তামিলনাড়ুর সেই চরম সংঘাতের অধ্যায় পার করে এবার বাংলার রাজভবনে পা রাখছেন আর. এন. রবি। নবান্নের সঙ্গে তাঁর সমীকরণ কেমন হবে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজনৈতিক মহল।




















