নয়াদিল্লি: দেশজুড়ে চলা তীব্র জ্বালানি এবং এলপিজি সঙ্কটের মাঝেই এল বড়সড় স্বস্তির খবর। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড়সড় জয় পেল নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্করের সঙ্গে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ আলোচনার পরই ভারতীয় জাহাজ এবং তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ খুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করল ইরান। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের আবহে ভারতের এই কূটনৈতিক সাফল্য দেশের জ্বালানি সঙ্কট মেটাতে গেম-চেঞ্জার হতে চলেছে বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।
বৈঠকে বিরাট সিদ্ধান্ত
জানা গিয়েছে, চরম উত্তেজনার আবহেই ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরঘাচির সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। এই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয়ই ছিল সামুদ্রিক পথ অবরুদ্ধ হয়ে থাকার কারণে ব্যাহত হওয়া তেল এবং প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা। আলোচনার পরেই ইরান সিদ্ধান্ত নেয় যে, ভারতীয় পতাকা বহনকারী সমস্ত বাণিজ্যিক জাহাজ এবং তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলি এবার থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নির্বিঘ্নে যাতায়াত করতে পারবে। সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, বর্তমানে যেখানে আমেরিকা, ইউরোপ এবং ইজরায়েলের জাহাজগুলিকে এই রুটে চরম বিধিনিষেধ ও হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে, সেখানে ভারতের জন্য এই পথ খুলে দেওয়া নয়াদিল্লির এক বিরাট কূটনৈতিক জয়।
কূটনৈতিক তৎপরতায় ভারত Hormuz Strait opened for Indian oil tankers
শুধু ইরান নয়, বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার আবহে কূটনৈতিক তৎপরতা আরও বাড়িয়েছে ভারত। এই ইস্যুতে রাশিয়ার বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ এবং ফ্রান্সের বিদেশমন্ত্রী জঁ-নোয়েল ব্যারটের সঙ্গেও বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এস. জয়শঙ্কর।
এবার কি মিটবে দেশের জ্বালানি ও এলপিজি সঙ্কট?
হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক চেকপয়েন্ট। আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহণের ক্ষেত্রে এই পথটি বিশ্ব অর্থনীতির কার্যত ‘লাইফলাইন’। বিশ্বের বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের জাহাজ এই প্রণালী দিয়েই যাতায়াত করে। ভারত তার প্রয়োজনীয় জ্বালানির একটি বিরাট অংশের আমদানির জন্য গাল্ফ অঞ্চলের উপর নির্ভরশীল।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে এই জলপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ভারতে এলপিজি ও জ্বালানি তেলের বিপুল ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। রেস্তোরাঁ থেকে সাধারণ মানুষের হেঁশেল, সর্বত্রই আকাল দেখা দিয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের এই বিশেষ অনুমতির ফলে গাল্ফ অঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ শিপিং রুটটি দিয়ে ফের ভারতে তেল ও গ্যাস আসা শুরু হবে। এর ফলে খুব দ্রুত দেশের জ্বালানির স্টক স্বাভাবিক হবে এবং রান্নার গ্যাস থেকে শুরু করে অন্যান্য জ্বালানির ঘাটতি অনেকটাই মিটবে বলে আশা করা হচ্ছে।



