মুম্বই: ইরান-আমেরিকা-ইজরায়েল যুদ্ধের আঁচ এবার সরাসরি এসে পড়ল ভারতের শেয়ার বাজারে। বিশ্বজুড়ে চলা চরম ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ফের ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি পার করেছে। আর এর জেরে বুধবার সকালে বাজার খুলতেই দালাল স্ট্রিটে শুরু হয় ব্যাপক রক্তক্ষরণ। লার্জ-ক্যাপ থেকে শুরু করে মিড-ক্যাপ এবং স্মল-ক্যাপ, সর্বত্রই দেখা গিয়েছে প্রবল বিক্রির চাপ।
সূচকের বড়সড় পতন
বুধবার খোলার পর থেকেই হুড়মুড়িয়ে পড়তে থাকে শেয়ার বাজারের সূচক। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (BSE) সূচক সেনসেক্স শুরুর দিকেই প্রায় ১০০০ পয়েন্টের বেশি পড়ে গিয়ে ৭৫,৮৯০.৫৭ পয়েন্টে ট্রেড করতে শুরু করে।
অন্যদিকে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (NSE) সূচক নিফটি ৫০ প্রায় ১.২৬ শতাংশ বা ৩০০ পয়েন্ট কমে ২৩,৫৬৫.৭০ পয়েন্টে নেমে আসে, যা ২৩,৬০০-র গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্টের নিচে। আগের সেশনে নিফটি ২৩,৮৬৬.৮৫-তে বন্ধ হয়েছিল।
স্মলক্যাপ ও মিডক্যাপেও ব্যাপক ধস Iran war impact on Indian stock market
বড় কোম্পানিগুলির পাশাপাশি মাঝারি ও ছোট কোম্পানিগুলির শেয়ারেও ব্যাপক পতন দেখা গিয়েছে, যা বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার অনীহাকেই স্পষ্ট করছে। নিফটি নেক্সট ৫০ (Nifty Next 50) ১.৭১ শতাংশ, নিফটি মিডক্যাপ সিলেক্ট ১.৮১ শতাংশ এবং নিফটি স্মলক্যাপ ১০০ সূচক ১.৭৩ শতাংশ কমেছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে কোন সেক্টর?
সেক্টোরাল সূচকগুলির বেশিরভাগই এদিন লালে বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে ব্যাঙ্কিং এবং অটো সেক্টর। নিফটি ব্যাঙ্ক সূচক ১.৬৭% কমে ৫৪,৮০৩-এ নেমেছে। সরকারি ও বেসরকারি, উভয় ব্যাঙ্কিং স্টকেই পতন দেখা গিয়েছে। ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস সূচক কমেছে ১.৫২%।
নিফটি অটো সবচেয়ে খারাপ পারফর্ম করেছে (-২.৪০%)। এছাড়া রিয়েলটি (-২.১৫%), মিডিয়া (-২.১৫%), কনজ্যুমার ডিউরেবলস (-২.২১%) এবং পিএসইউ ব্যাঙ্ক (-২.০৬%) চরম পতনের সাক্ষী হয়েছে।
প্রতিরোধ গড়ল আইটি ও ফার্মা
এই ব্যাপক পতনের বাজারে তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো জায়গায় ছিল ‘ডিফেন্সিভ’ বা প্রতিরক্ষামূলক সেক্টরগুলি। নিফটি আইটি সবচেয়ে কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এটি মাত্র ০.৪৯% কমেছে। পাশাপাশি ফার্মা (-০.৮৬%) এবং অয়েল ও গ্যাস (-০.৮৫%) সেক্টরও অন্যান্যদের তুলনায় পতনের মাত্রা কিছুটা সীমিত রাখতে পেরেছে।
বিশেষজ্ঞদের মত এবং বাজারের ভবিষ্যৎ
বাজারের এই টালমাটাল পরিস্থিতির জেরে অস্থিরতার সূচক ‘ইন্ডিয়া ভিক্স’ ৪.৩৫% বেড়ে ২১.৯৮-এ পৌঁছেছে, যা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দেয়।
বাজারের এই পতন নিয়ে জিওজিৎ ইনভেস্টমেন্টস-এর চিফ ইনভেস্টমেন্ট স্ট্র্যাটেজিস্ট ভি. কে. বিজয়কুমার জানিয়েছেন, “বাইরের প্রতিকূল পরিস্থিতি বাজারকে দুর্বল করে তুলেছে। যুদ্ধ থামার কোনও লক্ষণ নেই এবং ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল ফের ১০০ ডলারের স্তরে পৌঁছে যাওয়ায়, এই দুর্বলতা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাই বেশি।” তিনি আরও বলেন, দেশীয় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ক্রমাগত শেয়ার কিনলেও, বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের একটানা শেয়ার বিক্রির কারণে বাজার ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না।



