কলকাতা: শীত বিদায়ের লক্ষণ স্পষ্ট। ফেব্রুয়ারির শুরুতেই দিন ও রাতের তাপমাত্রার ব্যাপক হেরফেরে রাজ্যে সময়ের আগেই গ্রীস্মের আগমনী বার্তা মিলছে। মৌসম ভবন (IMD) এবং স্কাইমেট ওয়েদারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উষ্ণ হতে চলেছে। আবহাওয়া দপ্তরের আশঙ্কা, ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে কলকাতার তাপমাত্রা ৩২ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং মার্চের মাঝামাঝিতে তা ৪০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
সময়ের আগেই তীব্র গরমের পূর্বাভাস
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আকাশ পরিষ্কার থাকায় সরাসরি সূর্যের আলো ভূপৃষ্ঠকে বেশি উত্তপ্ত করছে, ফলে দিনের তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কেবল কলকাতাই নয়, মুম্বই, চেন্নাই এবং বেঙ্গালুরুর মতো শহরে ইতিমধ্যেই গ্রীষ্মের আমেজ শুরু হয়ে গেছে। মুম্বইয়ের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ ডিগ্রি বেশি।
উত্তর ভারতেও একই পরিস্থিতি। পঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থান এবং উত্তর প্রদেশের সমভূমিতে তাপমাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বছর শীতকাল তাড়াতাড়ি বিদায় নিচ্ছে। আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে উত্তর ভারতে তাপমাত্রা আরও ২-৩ ডিগ্রি বৃদ্ধি পেতে পারে।
খরা ও ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা February 2026 weather forecast
তীব্র গরমের পাশাপাশি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বৃষ্টির ঘাটতি। আইএমডির পূর্বাভাস অনুসারে, ফেব্রুয়ারিতে সারা দেশে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর-পশ্চিম ভারতে বৃষ্টিপাত আরও কম হতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে গম, যব এবং সরিষার মতো রবি ফসলের উপর। সময়ের আগেই তাপমাত্রা বৃদ্ধি ফসল নষ্টের কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পাহাড়ে তুষারপাত, সমতলে শুষ্ক আবহাওয়া
সমতলে গরম বাড়লেও, পাহাড়ি এলাকায় এখনও পশ্চিমা ঝঞ্ঝার প্রভাব বজায় রয়েছে। উত্তরাখণ্ড, হিমাচল প্রদেশ এবং জম্মু ও কাশ্মীরের উঁচু এলাকাগুলোতে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত এবং তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই প্রভাব সমতল অঞ্চলে খুব একটা স্পষ্ট নয়, তাই রাজ্যে শুষ্ক আবহাওয়া এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবণতাই বজায় থাকবে।




















