নয়াদিল্লি: কর্পোরেট ক্রিকেটে লুকিয়ে থাকা প্রতিভাদের সামনে নতুন সুযোগ এনে দেবে ভারতীয় কর্পোরেট প্রিমিয়ার লিগ (বিসিপিএল)- এমনই মত প্রকাশ করলেন ভারতের প্রাক্তন অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলি (Sourav Ganguly)। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) জাতীয় রাজধানীর একটি সিটি কনভেনশন সেন্টারে বিসিপিএল সিজন ৪-এর ট্রফি ও জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্বকাপজয়ী প্রাক্তন পেসার জহির খান। তাঁদের উপস্থিতিতে বিশ্বের বৃহত্তম কর্পোরেট ক্রিকেট লিগ হিসেবে পরিচিত বিসিপিএল-এর চতুর্থ মরসুমের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এই মরসুমে প্রথমবার আন্তর্জাতিক পরিসরে পা রাখছে লিগটি, যেখানে মোট দশটি দল অংশ নেবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সৌরভ গাঙ্গুলী বলেন, কর্পোরেট ক্রিকেট তাঁর নিজের ক্রিকেট জীবনের শুরুর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। তিনি জানান, আইপিএল শুরুর আগের সময়ে টাটা স্টিলে কাজ করার পাশাপাশি কর্পোরেট ক্রিকেট খেলাই তাঁকে মূল্যবান অভিজ্ঞতা ও পরিচিতি এনে দিয়েছিল। তাঁর কথায়, বিসিপিএল এমন একটি মঞ্চ তৈরি করছে, যেখানে কর্পোরেট পেশার সঙ্গে যুক্ত ক্রিকেটাররাও নিজেদের স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে পারেন।
জহির খান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ভারতে ক্রিকেট প্রতিভার অভাব নেই, কিন্তু অনেক সময় সঠিক কাঠামোর অভাবে সেই প্রতিভা সামনে আসে না। বিসিপিএল কর্পোরেট পেশাদারদের জন্য সেই কাঠামোগত সুযোগ তৈরি করছে। তিনি বলেন, তৃণমূল পর্যায় থেকেই তাঁকে খুঁজে পাওয়া হয়েছিল, আর সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বিশ্বাস করেন যে বিসিপিএল ভবিষ্যতে বহু প্রতিভাবান ক্রিকেটারকে সামনে নিয়ে আসবে।
সৌরভ গাঙ্গুলী শুধু ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবেই নয়, বিসিপিএল সিজন ৪-এ পরামর্শদাতার ভূমিকাও পালন করবেন। অন্যদিকে, ২০১১ সালের আইসিসি বিশ্বকাপজয়ী দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য জহির খান লিগের টেকনিক্যাল কমিটির উপদেষ্টার দায়িত্বও সামলাবেন।
বিসিপিএল-এর চেয়ারম্যান সৌরভ ঝা বলেন, এই লিগের মূল লক্ষ্য কর্পোরেট ক্রিকেট ও পেশাদার ক্রিকেট ইকোসিস্টেমের মধ্যে ব্যবধান কমানো। তাঁর মতে, দেশের বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থায় বহু প্রতিভাবান ক্রিকেটার রয়েছেন, যাঁরা এতদিন পর্যাপ্ত সুযোগ পাননি।
লিগটির ট্রায়াল গত বছরের শেষ দিকে দেশের ২১টি শহরে চার ধাপে অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে নির্বাচিত ৩০০ জন খেলোয়াড় নিলাম পুলে জায়গা পান। নিলামে নির্বাচিত খেলোয়াড়রা এক মরসুমে ২ লক্ষ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক পেতে পারেন। বিজয়ী দল পাবে ২ কোটি টাকা, রানার্স-আপ দল পাবে ১ কোটি টাকা, আর সিরিজের সেরা খেলোয়াড়ের জন্য থাকছে একটি বিলাসবহুল লেক্সাস গাড়ি।
কর্পোরেট ক্রিকেটের জগতে বিসিপিএল যে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলছে, তা নিয়ে ক্রিকেট মহলে আশাবাদ ক্রমশই বাড়ছে।




















