
স্পোর্টস ডেস্ক, কলকাতা: ভারতীয় ফুটবলের (Indian Football) ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং জাতীয় দলের উন্নয়ন নিয়ে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে কড়া অবস্থান নিলেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী Mansukh Mandaviya। আইএসএলের বিভিন্ন ক্লাব প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বৈঠকে দেশের ফুটবলের সামগ্রিক উন্নয়ন, জাতীয় দলের প্রস্তুতি এবং ক্লাবগুলির ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে ক্রীড়ামন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, জাতীয় দলের স্বার্থের ঊর্ধ্বে কোনও ক্লাবের স্বার্থ হতে পারে না। তিনি বলেন, দেশের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়া একজন ফুটবলারের অধিকার এবং দায়িত্ব দুটোই। যদি কোনও ক্লাব ইচ্ছাকৃতভাবে জাতীয় শিবির বা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য ফুটবলারদের ছাড়তে অনীহা দেখায়, তবে তা দেশের ফুটবলের ক্ষতি করে। এমন প্রবণতাকে তিনি অত্যন্ত গুরুতর বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ারও ইঙ্গিত দেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন Kalyan Chaubey-ও। তিনি ক্লাবগুলির কাছে আবেদন জানান, ভারতীয় ফুটবলের উন্নয়নের স্বার্থে দেশীয় কোচ এবং ফুটবলারদের আরও বেশি সুযোগ দেওয়া হোক। তাঁর মতে, ক্লাবগুলি বিদেশি প্রধান কোচ নিয়োগ করলেও সহকারী কোচের পদে ভারতীয়দের রাখলে স্থানীয় কোচদের দক্ষতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় দলের জন্য আরও যোগ্য কোচ তৈরি হবে।
এছাড়া ভারতীয় স্ট্রাইকারদের পর্যাপ্ত খেলার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরেই ভারতীয় ফুটবলে মানসম্পন্ন স্ট্রাইকারের অভাব নিয়ে আলোচনা চলছে। সেই কারণে ক্লাবগুলিকে অনুরোধ করা হয়েছে, ম্যাচে ভারতীয় ফরোয়ার্ডদের নিয়মিতভাবে সুযোগ দিতে। পাশাপাশি ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিদেশে থাকা ফুটবলারদের জাতীয় দলের পরিসরে আনার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।
অন্যদিকে, বিভিন্ন ক্লাব তাদের নিজস্ব কিছু প্রস্তাবও বৈঠকে তুলে ধরে। কিছু ক্লাব দেশীয় ফুটবলারদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে বিদেশি ফুটবলারের সংখ্যা কমানোর পক্ষে মত দেয়। আসন্ন Durand Cup-এ বিদেশি ফুটবলারের সংখ্যা সীমিত করার প্রস্তাবও আলোচনা হয়। সূত্রের খবর, আয়োজক ও ফেডারেশন বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।
বৈঠকে ফুটবলারদের বেতন কাঠামো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। কয়েকটি ক্লাব মনে করে, অতিরিক্ত বেতন প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট করছে এবং ছোট ক্লাবগুলির উপর আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে। তাই নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বেতনসীমা বা স্যালারি ক্যাপ চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে ক্রীড়ামন্ত্রক এবং ফেডারেশন সরাসরি হস্তক্ষেপে আগ্রহী নয়। তবে ক্লাবগুলির মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হলে ভবিষ্যতে বিষয়টি বাস্তবায়িত হতে পারে।
সব মিলিয়ে, এই বৈঠক ভারতীয় ফুটবলের আগামী দিনের রূপরেখা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। জাতীয় দলের উন্নয়ন, দেশীয় কোচ ও ফুটবলারদের বিকাশ, আর্থিক ভারসাম্য এবং লিগ পরিচালনার নতুন কাঠামো—সবকিছু মিলিয়ে ভারতীয় ফুটবলকে আরও শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলাই ছিল আলোচনার মূল লক্ষ্য। আগামী কয়েক মাসে এই প্রস্তাবগুলির কতটা বাস্তবায়ন হয়, সেদিকেই নজর থাকবে ফুটবল মহলের।

