তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যুদ্ধের কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। (Defence Minister)আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আজিজ নাসিরজাদেহ নিহত হয়েছেন। এই হামলা তেহরানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের বৈঠক চলাকালীন চালানো হয়, যাতে ইরানের একাধিক শীর্ষ সামরিক নেতা একসঙ্গে প্রাণ হারান।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও অন্যান্য সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, এই হামলায় সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল আব্দোল রহিম মুসাভি, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর এবং খামেনির নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলী শামখানিও নিহত হয়েছেন। এর আগে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে, যা ইরানের শাসনব্যবস্থাকে গভীর সংকটে ফেলে দিয়েছে।
আরও দেখুনঃ ভারত-মার্কিন সম্পর্ক নিয়ে বিস্ফোরক প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী
ঘটনাটি শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর ভোরে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সমন্বয়ে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে একটি বড়সড় বিমান অভিযান চালানো হয়। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ জানিয়েছেন, খামেনিকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল গত নভেম্বর মাসে, এবং এটি ছয় মাসের পরিকল্পনার ফসল। হামলায় ইরানের সামরিক ঘাঁটি, পারমাণবিক স্থাপনা এবং সরকারি ভবনসহ ৫০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়।
তেহরানের আকাশে বিস্ফোরণের শব্দে রাতের নীরবতা ভেঙে পড়ে, রাস্তায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিশোধমূলক মিসাইল হামলা চালানো হয়েছে ইসরায়েল, জর্ডান, সৌদি আরবসহ ছয়টি দেশে। টেল আভিভে ইসরায়েলের আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ভেদ করে একটি মিসাইল আঘাত হেনেছে বলে খবর।আজিজ নাসিরজাদেহ ছিলেন ইরানের সামরিক বাহিনীর একজন অভিজ্ঞ যোদ্ধা। তিনি ইরান-ইরাক যুদ্ধের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন যুদ্ধবিমান চালক ছিলেন।
২০১৮ সাল থেকে ইরানি বিমান বাহিনীর কমান্ডার এবং পরে সশস্ত্র বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের আগস্টে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সরকারে প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পান এবং পার্লামেন্টে রেকর্ড ভোটে অনুমোদন পান। তিনি ইরানের প্রতিরক্ষা নীতিতে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন। কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে নির্দেশ দিয়েছিলেন, যাতে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান। এই অভিযোগ তাকে বিতর্কিত করে তুলেছিল।



















