চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে উধাও স্থানীয়দের নাম! সাঁকরাইলে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা

কলকাতা: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোটাধিকার একজন নাগরিকের অন্যতম প্রধান ও মৌলিক অধিকার। আর সেই অধিকার নিয়েই এবার চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হল ঝাড়গ্রাম জেলার সাঁকরাইল ব্লকে। ফাইনাল বা চূড়ান্ত ভোটার ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
West Bengal Final Voter List

কলকাতা: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভোটাধিকার একজন নাগরিকের অন্যতম প্রধান ও মৌলিক অধিকার। আর সেই অধিকার নিয়েই এবার চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হল ঝাড়গ্রাম জেলার সাঁকরাইল ব্লকে। ফাইনাল বা চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নিজেদের নামের পাশে জ্বলজ্বলে ‘ডিলিটেড’ (Deleted) লেখা দেখে রীতিমতো আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন এলাকার একাধিক দীর্ঘস্থায়ী বাসিন্দা বা ‘ভূমিপুত্র’।

কোথায় ঘটেছে এই ঘটনা?

সাঁকরাইল ব্লকের আন্ধারী গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পাতরপাড়া এবং বিদ্যাধরপুর গ্রামে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি সামনে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, তাঁরা কেউই ভিনদেশি, রোহিঙ্গা বা অনুপ্রবেশকারী নন। পুরুষানুক্রমে তাঁরা এই এলাকারই বাসিন্দা। তা সত্ত্বেও ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ যাওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

   

ভুক্তভোগীদের বয়ান ও আশঙ্কা West Bengal Voter List Deletion

পাতরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বেলি পাতর মহিশগোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪৮ নম্বর বুথের ভোটার। কিন্তু চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁর নামের জায়গায় বড় করে ‘ডিলিটেড’ লেখা রয়েছে।

বিদ্যাধরপুর গ্রামের বাসিন্দা নিত্যানন্দ বিশুইয়ের নামও বাদ পড়েছে গড়ধরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪৭ নম্বর বুথের তালিকা থেকে। তিনি এবং তাঁর দাদা কর্মসূত্রে কলকাতায় থাকেন। আশ্চর্যের বিষয় হল, বড় দাদার নাম ভোটার তালিকায় থাকলেও ছোট ভাই নিত্যানন্দ বিশুইয়ের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। অথচ প্রতি নির্বাচনেই তাঁরা নিয়ম করে ভোট দিয়ে এসেছেন।

নাম বাদ পড়া ভোটারদের সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হলো সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে। ভোটার তালিকায় নাম না থাকলে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক সামাজিক প্রকল্প থেকে তাঁরা বঞ্চিত হতে পারেন বলে মনে করছেন।

শুরু রাজনৈতিক তরজা

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয়েছে প্রবল রাজনৈতিক চাপানউতোর। শাসকদলের দাবি, বিজেপি সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের যোগসাজশেই সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে এলাকার বাসিন্দাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে। তবে তৃণমূলের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যাতে একজন প্রকৃত ভোটারের নামও বাদ না যায়, তার জন্য দলের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজেপির পাল্টা দাবি: অন্যদিকে, গেরুয়া শিবির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের পাল্টা দাবি, এই পুরো ঘটনার জন্য তৃণমূল কংগ্রেস এবং তাদের পরিচালিত প্রশাসনই দায়ী।

কী বলছে প্রশাসন?

আতঙ্কের আবহে কিছুটা আশ্বাসের সুর শোনা গিয়েছে বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) গলায়। মহিশগোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪৮ নম্বর বুথের বিএলও অতনু বেরা এবং গড়ধরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪৭ নম্বর বুথের বিএলও অশুয়ালী শিং জানিয়েছেন, যাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গেছে, তাঁদের চিন্তার কোনও কারণ নেই। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখে দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রশাসনের তরফ থেকে সবরকম সহযোগিতা করা হবে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।

Follow on Google