তেহরান: ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলায় মার্কিন নৌবাহিনীর (IRGC missile attack)বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন সরাসরি আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC)। এটি ইরানের দ্বিতীয় দফা হামলা বা প্রতিশোধমূলক আক্রমণের ১৯তম তরঙ্গ হিসেবে দাবি করেছে IRGC।
ইরানি রাষ্ট্রীয় মিডিয়া ও আইআরজিসি মুখপাত্র জানিয়েছে যে, ওমান উপসাগরে অবস্থানরত এই রণতরীতে একাধিক ব্যালিস্টিক মিসাইল সরাসরি আঘাত হেনেছে, যার ফলে রণতরীটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এর স্ট্রাইক গ্রুপ দ্রুত সরে গেছে। এই দাবি অনুসারে, হামলাটি ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ফোর’-এর অংশ, যা মার্কিন-ইসরায়েলি আক্রমণের প্রতিক্রিয়ায় চালানো হচ্ছে।
গত ১ মার্চ ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস জানিয়েছে যে, চারটি ব্যালিস্টিক মিসাইল লক্ষ্য করে ছোড়া হয়েছে আব্রাহাম লিঙ্কনের দিকে, যা ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২৫০-৩৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ছিল। IRGC মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনি বলেছেন, হামলার পর রণতরীটি দক্ষিণ-পূর্ব ভারত মহাসাগরের দিকে সরে গেছে। ইরানি মিডিয়া দাবি করেছে যে, এই হামলা মার্কিন বাহিনীর অব্যাহত আক্রমণের জবাব, যাতে ইরানের সুপ্রিম লিডারসহ শীর্ষ নেতৃত্ব নিহত হয়েছে এবং সামরিক পরিকাঠামো ধ্বংস হয়েছে।
আরও দেখুনঃ ধ্বংসস্তূপে বেইরুট-বেকাভ্যালি এবার কি তবে আত্মসমর্পনের পালা?
এই প্রতিশোধমূলক হামলার ১৯তম তরঙ্গে ড্রোন ও মিসাইল মিলিয়ে ব্যাপক আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে ইরান জানিয়েছে।অন্যদিকে, আমেরিকার সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে। সেন্টকমের একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, “ইরানের আইআরজিসি দাবি করেছে যে তারা ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনকে ব্যালিস্টিক মিসাইল দিয়ে আঘাত করেছে এটা মিথ্যা। লিঙ্কন আঘাতপ্রাপ্ত হয়নি।
ছোড়া মিসাইলগুলো এমনকি কাছাকাছিও আসেনি। লিঙ্কন এখনও অবিরাম বিমান উড়িয়ে অপারেশন এপিক ফিউরিতে অংশ নিচ্ছে।” মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন যে, ইরানের ছোড়া মিসাইলগুলোকে এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে এবং রণতরীটির কোনো ক্ষতি হয়নি। পেন্টাগনের পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, কোনো মিসাইল রণতরীটির কাছে পৌঁছায়নি।
এই দাবি-প্রতিদাবির মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিওতে রণতরীতে আগুন লাগার দৃশ্য দেখানো হয়েছে, কিন্তু ফ্যাক্ট-চেকাররা (যেমন পলিটিফ্যাক্ট, এএফপি) নিশ্চিত করেছে যে সেগুলো পুরনো গেম ভিডিও (আর্মা ৩) বা অন্যান্য ঘটনার ফুটেজ। এই ধরনের ভুল তথ্য যুদ্ধের মধ্যে প্রচার হিসেবে ছড়ানো হচ্ছে।



















