তেহরান: মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন ক্রমশই ভয়াবহ আকার নিচ্ছে। (Iran Israel War)যুদ্ধের সপ্তম দিনে একের পর এক বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে ইরানের রাজধানী তেহরান। রাতভর শহরের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে আবাসিক এলাকা এবং তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। গুরুত্বপূর্ণ শহর লেবাননের বেইরুট এবং বেকাভ্যালি প্রায় ধ্বংসস্তূপ। কূটনীতিকদের মতে এটাই হয়ত ইরানের শেষের শুরু।
স্থানীয় সূত্র এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রাতের অন্ধকারেই একাধিক জায়গায় আঘাত হানে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলা। তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমের পারান্দ শহরে দুটি স্কুলে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবরও সামনে এসেছে। ফলে নিহতের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সির দাবি, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এই হামলায় ইতিমধ্যেই অন্তত ১,৩৩২ জন নিহত হয়েছেন।
আরও দেখুনঃ ঘরের মাঠে ওড়িশা বধ, ম্যাকলারেন ম্যাজিকে বিজয়রথ অব্যাহত মোহনবাগানের
শুধু ইরানই নয়, যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে প্রতিবেশী লেবাননেও। ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান লেবাননের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহরে হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে বেকা ভ্যালির দৌরিস শহর এবং রাজধানী বেইরুটের দক্ষিণ উপশহরগুলোতে তীব্র বোমাবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ইতিমধ্যেই ওই অঞ্চলগুলোর বহু বাড়িঘর ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাতভর আকাশে যুদ্ধবিমানের শব্দ এবং বিস্ফোরণের কম্পনে আতঙ্কে কাটছে সময়।
এই সংঘাতের মধ্যেই নতুন করে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরানকে “সময়ের আগেই এবং অভূতপূর্ব মাত্রায় ধ্বংস করা হচ্ছে”। ট্রাম্প আরও বলেন, “ইরানের এখন আর কোনও বিমানবাহিনী বা কার্যকর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই। তাদের এয়ার ফোর্স কার্যত শেষ হয়ে গেছে।” তাঁর এই মন্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অন্যদিকে ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ইসরায়েলের তেল আবিব শহরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের যৌথ হামলা চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার এবং বাহরাইনের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোকেও লক্ষ্য করে হামলা চালানোর খবর মিলেছে। ফলে সংঘাত এখন আর শুধু ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত যদি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না আসে, তবে তা আরও বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। কারণ এই সংঘর্ষে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে যুক্ত হয়ে পড়ছে একাধিক শক্তিধর দেশ। ফলে কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা আগের যেকোনও সময়ের তুলনায় বেশি হয়ে উঠেছে।
এদিকে তেহরানের সাধারণ মানুষ এখন সবচেয়ে বেশি বিপদের মধ্যে রয়েছেন। একের পর এক বিস্ফোরণ, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা এবং নিরাপত্তাহীনতার কারণে বহু মানুষ শহর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে পালিয়ে যাচ্ছেন। হাসপাতালগুলোতে আহতদের ভিড় বাড়ছে, আর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষদের বের করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। লেবাননের বেইরুট ও বেকা ভ্যালিতেও একই রকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বহু পরিবার ঘরবাড়ি হারিয়ে রাস্তায় নেমে এসেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আবেদন জানিয়েছে।



















