কলকাতা: শহরের আইনশৃঙ্খলা ও শান্তি বজায় রাখতে কড়া পদক্ষেপ করল কলকাতা পুলিশ। মধ্য কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টানা ৬০ দিনের জন্য যে কোনও ধরনের জমায়েত, ধর্না ও বিক্ষোভ কর্মসূচির ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হল। সম্ভাব্য অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা এড়াতেই লালবাজারের তরফে এই আগাম সতর্কতামূলক পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৬৩ ধারার অধীনে এই নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। গত ৪ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ২ মে পর্যন্ত, অথবা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।
কোন কোন এলাকায় নিষেধাজ্ঞা?
লালবাজার সূত্রে খবর, মূলত মধ্য কলকাতার ব্যস্ত এবং বাণিজ্যিক এলাকাগুলিকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-বউবাজার এবং হেয়ার স্ট্রিট থানা এলাকা, হেডকোয়ার্টার্স ট্রাফিক গার্ডের অধীন বেশ কিছু অংশ, কেসি দাস ক্রসিং থেকে ভিক্টোরিয়া হাউস সংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা৷ তবে, সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে বেন্টিঙ্ক স্ট্রিটের কিছু অংশকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।
নির্দেশিকায় কী কী বলা হয়েছে? Kolkata police ban on gatherings
- নির্দিষ্ট এলাকাগুলিতে পাঁচ বা তার বেশি ব্যক্তির বেআইনি জমায়েত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
- লাঠি বা অন্য কোনও বিপজ্জনক অস্ত্র বহন করা দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে।
- শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা এড়াতে ওই এলাকাগুলিতে আপাতত সব ধরনের সভা, মিছিল, ধর্না বা বিক্ষোভ কর্মসূচি বন্ধ থাকবে।
কেন এই তড়িঘড়ি পদক্ষেপ?
পুলিশ সূত্রে খবর, নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশের কাছে আগাম খবর রয়েছে যে, নির্দিষ্ট কিছু জায়গায় হিংসা, বিক্ষোভ বা বড় জমায়েত হলে তা শহরের সামগ্রিক জনশৃঙ্খলা ও শান্তি বিঘ্নিত করতে পারে। পাশাপাশি, শহরের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকাগুলিতে যাতে যানজট তৈরি না হয় এবং সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে পড়তে না হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই নির্দেশ।
লালবাজার জানিয়েছে, যেহেতু প্রত্যেক নাগরিককে আলাদা করে নোটিস পাঠানো বাস্তবসম্মত নয়, তাই জনস্বার্থে এই নির্দেশ একতরফাভাবেই জারি করা হয়েছে। নির্দেশিকাটি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে ওয়াকিবহাল করতে সংবাদমাধ্যম, কলকাতা পুলিশ গেজেট এবং সংশ্লিষ্ট থানাগুলির নোটিস বোর্ডে এর কপি টাঙিয়ে দেওয়া হবে।




















