তেহরান: ইরানে চলতে থাকা যুদ্ধের আবহে বড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে তেহরান। (Iran opens land border)ইরান ভারতীয় নাগরিকদের জন্য স্থলসীমান্ত খুলে দিয়েছে, যাতে তারা ল্যান্ড চেকপয়েন্ট দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারেন। এই সুবিধায় কোনো পূর্ব অনুমতি বা বিশেষ ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজন নেই শুধু পাসপোর্ট দেখিয়েই যাওয়া যাবে। এই পদক্ষেপকে যুদ্ধকালীন সময়ে বিদেশি নাগরিকদের জন্য বিরল সহায়তা বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারতীয়দের জন্য এই খবর বড় স্বস্তি এনেছে।
কারণ ইরানে আটকে পড়া হাজার হাজার ভারতীয় বিশেষ করে ছাত্ররা এখন নিরাপদে বাড়ি ফেরার পথ খুঁজছেন।গত কয়েকদিন ধরে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের আকাশপথ বন্ধ হয়ে গেছে। ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ, বিস্ফোরণ এবং আকাশে ড্রোনের ভিড়ে বিমান চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এর ফলে ইরানে থাকা প্রায় ৯,০০০ থেকে ১০,০০০ ভারতীয় নাগরিক যাদের মধ্যে বেশিরভাগই মেডিকেল ও ইঞ্জিনিয়ারিং ছাত্র আটকে পড়েছেন।
আরও দেখুনঃ জিহাদ ঘোষণা করা ইরানি গ্র্যান্ড ধর্মগুরুকে মেরে ফেলার দাবি মার্কিন-ইসরায়েলিদের
তেহরান, কোম, মশহাদের মতো শহরে তারা অপেক্ষা করছেন, কখনো বিমান চালু হবে কি না। কিন্তু এখন ইরান সরকারের ঘোষণা অনুসারে, তারা যেকোনো স্থলসীমান্ত আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, তুর্কমেনিস্তান বা অন্যান্য প্রতিবেশী দেশের দিকে পাসপোর্ট দেখিয়ে বেরিয়ে যেতে পারবেন। কোনো অতিরিক্ত পারমিট বা ভিসা চেকের ঝামেলা নেই। এটা যেন যুদ্ধের মাঝে একটা মানবিক দরজা খুলে দেওয়া।ভারতীয় দূতাবাস তেহরান থেকে বারবার অ্যাডভাইজরি জারি করেছে।
“যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেশ ছেড়ে যান, যেকোনো উপায়ে বিমান, স্থলপথ বা অন্য কোনো মাধ্যমে,” বলা হয়েছে। ছাত্রদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইরানি কর্তৃপক্ষ ভারত সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে এই সুবিধা দিয়েছে। কনসাল জেনারেল সাঈদ রেজা মোসায়েব মোতলাঘ জানিয়েছেন, ভারতীয় ছাত্রদের নিরাপদে বের করে নেওয়ার সব ব্যবস্থা করা হয়েছে। তারা যেকোনো ল্যান্ড বর্ডারে গিয়ে পাসপোর্ট দেখালেই চেকপয়েন্ট পার হতে পারবেন।
এরপর প্রতিবেশী দেশ থেকে বিমান ধরে ভারতে ফেরা যাবে।এই সিদ্ধান্তের পিছনে ভারত সরকারের কূটনৈতিক প্রভাবকে অনেকে কৃতিত্ব দিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতের বিদেশনীতি সবসময় নাগরিকদের নিরাপত্তাকে প্রাধান্য দেয়। মধ্যপ্রাচ্যে প্রায় এক কোটি ভারতীয় বাস করেন, যা ভারতের জন্য একটা বড় দায়িত্ব।
এই সংকটে মোদী সরকার দ্রুত কূটনৈতিক চ্যানেল খুলে ইরানের সঙ্গে আলোচনা করেছে। ফলে ইরান সরকার ভারতীয়দের জন্য এই বিশেষ ছাড় দিয়েছে। এটা অন্য দেশের নাগরিকদের জন্য সাধারণত এত সহজ হয় না। অনেকে বলছেন, এটা মোদী সরকারের বিশ্বব্যাপী কূটনৈতিক লিভারেজের একটা উজ্জ্বল উদাহরণ যেখানে ভারতীয় নাগরিকরা যেকোনো সংকটে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন।



















