তেহরান: গতকাল তিনি জিহাদ ঘোষণা করেছিলেন। বলেছিলেন আমেরিকা এবং ইসরায়েল প্রত্যেকের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া হবে (Abdollah Javadi Amoli)। আদায় করা হবে রক্তঋণ। ভাষণের কয়েক ঘন্টার মধ্যেই ইরানি ধর্মগুরু গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ আব্দুল্লাহ জাভাদি আমোলিকে ধুলোয় মিশিয়ে দিল মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ আক্রমণ। এমনটাই দাবি করছে তারা। গত কয়েকদিন ধরে ইরানের ওপর আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলা চলছে।
এর মধ্যে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেইকে হত্যা করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছে, যা ইরানে ৪০ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে। এই হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই যুদ্ধের মাঝেই গতকাল কোম-এ অবস্থিত জাভাদি আমোলি একটি ভিডিও বার্তায় কঠোর ভাষায় বলেন, “শিয়া মুসলিমদের জন্য ট্রাম্প এবং জায়োনিস্টদের রক্ত ঝরানো বাধ্যতামূলক। এটা জিহাদের ফতোয়া।”
আরও দেখুনঃ বঙ্গ বিজেপির মেগা ইভেন্ট! ১৪ মার্চ ব্রিগেডে আসছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী
তাঁর এই বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় এবং বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তোলে। জাভাদি আমোলি ইরানের শিয়া ধর্মীয় নেতাদের মধ্যে একজন শীর্ষস্থানীয় মারজা-ই তাকলিদ। তিনি কুরআনের ব্যাখ্যাকার, দার্শনিক এবং রক্ষণশীল চিন্তাধারার প্রতিনিধি। তাঁর ফতোয়া অনেকের কাছে ইরানের প্রতিশোধের প্রতীক হয়ে উঠেছে। কিন্তু ফতোয়া জারির পরপরই, অর্থাৎ গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে, তাঁকে লক্ষ্য করে মার্কিন বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে খবর আসে।
কিছু সূত্র বলছে, তেহরানের কাছাকাছি একটি সামরিক স্থাপনা বা তাঁর বাসভবনের আশপাশে হামলা হয়েছে, যাতে তিনি নিহত হন। একাধিক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট এবং কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এই খবর ছড়িয়েছে যে “জাভাদি আমোলিকে নির্মূল করা হয়েছে”। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় মিডিয়া বা অফিসিয়াল সূত্র থেকে এখনও কোনো নিশ্চিত বিবৃতি আসেনি।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের মতো বিরোধী মিডিয়া এবং কিছু ওয়েস্টার্ন সূত্র এই খবরকে ছড়িয়ে দিচ্ছে, কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে এখনও নীরবতা। যদি এই খবর সত্যি হয়, তাহলে এটা ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার আরেকটি বড় ধাক্কা। খামেনেইর মৃত্যুর পর ইরানের নতুন নেতৃত্ব গড়ে তোলার মধ্যেই এমন একজন প্রভাবশালী আয়াতুল্লাহর মৃত্যু ধর্মীয় ও রাজনৈতিক স্তরে বড় প্রভাব ফেলবে।



















