হরমুজ অবরুদ্ধ! আটকে ৩৭ ভারতীয় জাহাজ, কী করবে কেন্দ্র?

কলকাতা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যের ওপর। হরমুজ প্রণালী ও ...

By Moumita Biswas

Published:

Follow Us
Indian ships stranded Strait of Hormuz

কলকাতা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ইজরায়েল এবং ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে তীব্র যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্যের ওপর। হরমুজ প্রণালী ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আটকে পড়েছে ৩৭টি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজ এবং ১,১০৯ জন নাবিক। এই ঘটনায় নাবিকদের নিরাপত্তা এবং দেশের বাণিজ্য নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

কোথায় আটকে রয়েছে জাহাজগুলি?

জানা গিয়েছে, এই জাহাজগুলি বর্তমানে পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরে অবস্থান করছে। এর মধ্যে বেশ কিছু জাহাজ কার্গো বা পণ্য তোলার অপেক্ষায় রয়েছে এবং কিছু জাহাজ ইতিমধ্যেই পণ্য বোঝাই অবস্থায় রয়েছে।

   

Read More: মোদীর কূটনৈতিক চালে ভারতীয়দের বেরোনোর জন্য সীমান্ত খুলে দিল ইরান

সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করল INSA (Indian ships stranded Strait of Hormuz)

এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে ভারত সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপ দাবি করেছে ‘ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল শিপওনার্স অ্যাসোসিয়েশন’ (INSA)। এক বিবৃতিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “আমরা জানতে পেরেছি যে দেশের প্রয়োজনে পরিষেবা দিতে গিয়ে প্রায় ৩৭টি ভারতীয় জাহাজ ওই অঞ্চলে আটকে রয়েছে। এই জাহাজগুলি হরমুজ প্রণালীর দুই দিকেই অবস্থান করছে এবং এতে ভারতীয় নাবিকরা রয়েছেন। ভারত সরকারের কাছে আমাদের অনুরোধ, হরমুজ প্রণালী দিয়ে এই জাহাজগুলি যাতে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারে, তার দ্রুত ব্যবস্থা করা হোক।”

সংগঠনের তরফে ভারতীয় নাবিকদের জীবন, দেশের সম্পদ এবং সাপ্লাই চেইন (সরবরাহ শৃঙ্খল) রক্ষার স্বার্থে সম্মিলিত পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ইরানের হুমকি ও হরমুজ প্রণালী বন্ধের ঘোষণা

গত ২রা মার্চ, ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) হরমুজ প্রণালী দিয়ে সামুদ্রিক যান চলাচল কার্যত বন্ধ করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। তারা স্পষ্ট হুমকি দিয়েছে যে, এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক জলপথ বা চোকপয়েন্ট দিয়ে কোনো জাহাজ যাওয়ার চেষ্টা করলে তার ওপর হামলা চালানো হবে। মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাতের কারণে ইতিমধ্যেই এই রুট দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছে।

Read More: জিহাদ ঘোষণা করা ইরানি গ্র্যান্ড ধর্মগুরুকে মেরে ফেলার দাবি মার্কিন-ইসরায়েলিদের

ভারতের অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?

‘মানি কন্ট্রোল’-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, দুই পক্ষের মধ্যে শত্রুতা আরও বৃদ্ধি পেলে ভারতের অর্থনীতি বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে৷ ভারতের মোট আমদানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ (২০ শতাংশ) সরাসরি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এর মধ্যে রয়েছে অপরিশোধিত তেল, খাদ্যসামগ্রী এবং রাসায়নিক দ্রব্য।

ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৪৬ শতাংশই এই হরমুজ প্রণালী হয়ে আসে। ফলে এই পথ বন্ধ হলে দেশে তেলের দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে। জ্বালানি ছাড়াও সোনা-রুপো (বুলিয়ন), শিল্পে ব্যবহৃত রাসায়নিক এবং কিছু কৃষিজাত পণ্যের আমদানি ব্যাহত হতে পারে।

জাহাজের বিমা ও পরিবহণ খরচ বৃদ্ধি পেলে তা সামগ্রিকভাবে দেশের মুদ্রাস্ফীতি (Inflation) এবং বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

সরকারের নজরদারি

সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সরকার ঠিক কী কী পদক্ষেপ নেবে, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ এখনও বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে মেরিটাইম কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত ওই অঞ্চলে এক হাজারেরও বেশি ভারতীয় নাবিকের উপস্থিতি পরিস্থিতিকে অত্যন্ত স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

Moumita Biswas

দীর্ঘদিন ধরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। হাতেখড়ি হয়েছিল ‘একদিন’ সংবাদপত্র থেকে। দেশ ও রাজ্য রাজনীতির পাশাপাশি নানা বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী লেখা করেন।