ওয়াশিংটন: আমেরিকান প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের একটা চাঞ্চল্যকর বিবৃতি বিশ্বকে নতুন করে কাঁপিয়ে দিয়েছে (US Submarine)। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, “একটা আমেরিকান সাবমেরিন ইরানের একটা যুদ্ধজাহাজকে টর্পেডো দিয়ে ডুবিয়ে দিয়েছে। জাহাজটি ভেবেছিল আন্তর্জাতিক জলে সে নিরাপদ। কিন্তু নিঃশব্দ মৃত্যু এসে হানা দিয়েছে একটা টর্পেডোর আঘাতে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো শত্রু জাহাজ টর্পেডো দিয়ে ডোবানো হল।”
হেগসেথের এই কথা পেন্টাগনের একটা প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে, যা দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়া ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।এই ঘটনা ভারত মহাসাগরে ঘটেছে, শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল থেকে প্রায় ৪০-৫০ কিলোমিটার দূরে। ইরানের নৌবাহিনীর মৌদজ-শ্রেণির ফ্রিগেট ‘আইআরআইএস ডেনা’ (IRIS Dena) হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে। জাহাজের নাবিকরা বুঝতেই পারেনি কী হচ্ছে।
আরও দেখুন: সাবমেরিন হামলায় ডুবতে থাকা ৩২ নাবিককে উদ্ধার শ্রীলঙ্কার
একটা নিঃশব্দ টর্পেডো জাহাজের পেটে আঘাত করে, বিস্ফোরণ ঘটায় এবং মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে জাহাজটি ডুবে যেতে শুরু করে। হেগসেথ বলেন, “এটা ছিল একটা নিখুঁত অপারেশন। আমাদের সাবমেরিন ক্রু নীরবে কাজ সেরেছে। শত্রু জাহাজ ভেবেছিল আন্তর্জাতিক জলে কেউ তাদের ছুঁতে পারবে না। কিন্তু আমেরিকান নৌবাহিনী দেখিয়ে দিয়েছে আমরা যেখানে খুশি পৌঁছাতে পারি।”জাহাজে ১৮০ জন নাবিক ছিলেন।
শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ৩২ জনকে তুলে নেয়। এদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর আহত পোড়া, শ্বাসকষ্ট, ভাঙা হাড়। বাকি ১৪৮ জন এখনও নিখোঁজ। সমুদ্রের গভীরতা প্রায় ২০০০ মিটারের বেশি, অন্ধকার আর ঠান্ডা জল উদ্ধারের আশা কমে আসছে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা দিসানায়েকা বলেছেন, “আমরা মানবিক কারণে উদ্ধার করেছি। কিন্তু এই ঘটনা আমাদের অঞ্চলের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।”ইরানের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া এসেছে।
দেশের বিদেশ মন্ত্রণালয় বলেছে, “এটা একটা নগ্ন আগ্রাসন। আন্তর্জাতিক জলে শান্তিপূর্ণভাবে চলমান জাহাজকে আক্রমণ করা যুদ্ধাপরাধ। আমরা এর কঠোর জবাব দেব।” ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড (IRGC) জানিয়েছে, তারা এখন আমেরিকান নৌবহরের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযানের পরিকল্পনা করছে। তেহরানের রাস্তায় হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেছে, আমেরিকা-বিরোধী স্লোগান দিয়েছে।
হেগসেথের বিবৃতিতে ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথম টর্পেডো দিয়ে শত্রু জাহাজ ডোবানো’ বলা হয়েছে। এটা ঐতিহাসিক দাবি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনো বড় নৌযুদ্ধে টর্পেডো দিয়ে জাহাজ ডোবানোর নজির খুব কম। ফকল্যান্ড যুদ্ধে আর্জেন্টিনার ক্রুজার ‘জেনারেল বেলগ্রানো’কে ব্রিটিশ সাবমেরিন ডুবিয়েছিল ১৯৮২ সালে। তারপর এমন ঘটনা আর ঘটেনি। হেগসেথের কথায় এই ঘটনাকে একটা মাইলফলক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে আমেরিকান নৌবাহিনীর প্রযুক্তি ও কৌশলের জয়।



















