সাবমেরিন হামলায় ডুবতে থাকা ৩২ নাবিককে উদ্ধার শ্রীলঙ্কার

কলম্বো: কলম্বোর উপকূল থেকে কয়েকশো কিলোমিটার দূরে ভারত মহাসাগরের গভীর জলে এক ট্র্যাজেডির সাক্ষী হল বিশ্ব (IRIS Dena sailors)। ইরানের নৌবাহিনীর ফ্রিগেট ‘ডেনা’ (IRIS Dena)…

iris-dena-sailors-rescued-sri-lanka-navy

কলম্বো: কলম্বোর উপকূল থেকে কয়েকশো কিলোমিটার দূরে ভারত মহাসাগরের গভীর জলে এক ট্র্যাজেডির সাক্ষী হল বিশ্ব (IRIS Dena sailors)। ইরানের নৌবাহিনীর ফ্রিগেট ‘ডেনা’ (IRIS Dena) সাবমেরিন হামলায় বিধ্বস্ত হয়ে ডুবে যাচ্ছিল। সেই জাহাজ থেকে শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী অলৌকিকভাবে ৩২ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে। এই ৩২ জনের মধ্যে বেশিরভাগই গুরুতর আহত কেউ পুড়ে গেছে, কেউ শ্বাসকষ্টে ভুগছে, কেউ শরীরে গভীর ক্ষত নিয়ে লড়াই করছে।

জাহাজে মোট ১৮০ জন নাবিক ছিলেন। বাকি ১৪৮ জন এখনও নিখোঁজ। সমুদ্রের গভীরতা, ঠান্ডা জল আর অন্ধকার রাত সব মিলিয়ে উদ্ধার অভিযানকে করে তুলেছে প্রায় অসম্ভব।ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের গাল্লে থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে। স্থানীয় সময় রাত তিনটের দিকে জাহাজটি ডিসট্রেস সিগন্যাল পাঠায়। শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর রাডারে ধরা পড়ে একটা বড় বিস্ফোরণের পর জাহাজের গতি থেমে যাচ্ছে।

   

আরও দেখুনঃ লুকিয়ে হামলার পরিকল্পনা! ইরান গোয়েন্দা সংস্থার জালে একাধিক সন্দেহভাজন

তৎক্ষণাৎ দুটো যুদ্ধজাহাজ ‘সায়ুরা’ এবং ‘শক্তি’ এবং একটা ডর্নিয়ার বিমান পাঠানো হয়। উদ্ধারকারী টিম যখন পৌঁছায়, তখন জাহাজের অর্ধেক ডুবে গেছে। ধোঁয়া আর আগুনের মধ্যে কয়েকজন নাবিক জলে ঝাঁপ দিয়ে ভাসছিলেন। লাইফ জ্যাকেট পরা অবস্থায় তারা হাত নাড়ছিলেন, সাহায্য চাইছিলেন। শ্রীলঙ্কার নৌসেনারা দ্রুত লাইফবোট নামিয়ে তাদের তুলে নেয়। ৩২ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে, কিন্তু তাদের অবস্থা দেখে চোখে জল এসে যায়। কারও হাত-পা ভাঙা, কারও শরীরে পোড়া দাগ, কারও মুখ থেকে রক্ত বেরোচ্ছে।

শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীর মুখপাত্র ক্যাপ্টেন গায়ান উদয়াঙ্গা বলেন, “আমরা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পৌঁছেছি। কিন্তু জাহাজটা দ্রুত ডুবে যাচ্ছিল। আমরা যা পেরেছি করেছি। এখনও সার্চ অপারেশন চলছে।” উদ্ধার হওয়া নাবিকদের প্রথমে গাল্লের কারাপিটিয়া হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা তাদের চিকিৎসা করছেন। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, অন্তত পাঁচজনকে আইসিইউ-তে রাখা হয়েছে।

বাকিদের শরীরে সল্ট ওয়াটার অ্যাসপিরেশন এবং হাইপোথার্মিয়ার লক্ষণ রয়েছে।এই হামলার পিছনে আমেরিকান সাবমেরিনের হাত বলে সূত্রের খবর। ইরানের নৌবাহিনী বলছে, এটা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-এর অংশ, যেখানে আমেরিকা ইরানের নৌশক্তিকে ধ্বংস করার লক্ষ্য নিয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। তাদের বিদেশ মন্ত্রণালয় বলেছে, “এটা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। আমরা প্রতিশোধ নেব।” অন্যদিকে, আমেরিকার সেন্টকম জানিয়েছে যে তারা ইরানের নৌবাহিনীকে ‘নিরপেক্ষ’ করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার জন্য এটা একটা অপ্রত্যাশিত মানবিক সংকট। দেশটি নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছে। প্রেসিডেন্ট অনুরা দিসানায়েকা বলেছেন, “আমরা মানবিক কারণে উদ্ধার করেছি। এটা কোনো পক্ষ নেওয়া নয়।” তবে এই ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তায় প্রভাব ফেলতে পারে। ভারতের কাছাকাছি এলাকায় এমন ঘটনা ঘটছে, যা সবাইকে সতর্ক করে দিয়েছে। শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনী এখনও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। হেলিকপ্টার আর ড্রোন দিয়ে সমুদ্রের বড় এলাকা খুঁজছে। কিন্তু সময় কমে আসছে। প্রতি মিনিটে আশা কমছে।