ভোট যত এগোচ্ছে, ততই বামফ্রন্টের জোট অঙ্ক কঠিন হয়ে উঠছে। হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে সিপিএমের (CPIM) আলাপ এবং আইএসএফের আসন দাবির জটিলতা এখনো পুরোপুরি মিটে ওঠেনি। বামেরা ২০২৬ নির্বাচনের আগে শক্তিশালী জোট গঠন করতে চাইছে। কিন্তু শরিক দলের মধ্যে মতবৈষম্য এবং আসন বণ্টনের টানাপোড়েন সমস্যা তৈরি করেছে।
কাটমানি রুখতে পুলিশের বিশেষ হেল্পলাইন নম্বর, শুভেন্দু গড়ে নয়া উদ্যোগ
সূত্রের খবর, আইএসএফ এবার আগের তুলনায় বেশি আসনে লড়তে চায়। তারা মোটামুটি ৫০টি আসন চাওয়া নিয়ে মনোভাব স্পষ্ট করেছে। অন্যদিকে, ফরওয়ার্ড ব্লক এবং অন্যান্য বামশক্তি আইএসএফকে অতিরিক্ত আসন দিতে রাজি নয়। এই পরিস্থিতিতে নওশাদ সিদ্দিকীকে ৫০টি আসন দেওয়া হলে বামফ্রন্টকে নতুন করে জোট অঙ্ক করতে হবে।
সিপিআইএম শরিকদের সঙ্গে মতানৈক্য মেটাতে এবার ত্রাতা ভূমিকায় বসেছেন বামফ্রন্টের চেয়ারম্যান বিমান বসু। কিছুদিন আগে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকেও হুমায়ুন-নেওয়ার প্রেক্ষিতে নেতাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা যায়। একাংশ নেতার অসন্তোষের মুখে রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমকে যথাযথ ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে। সূত্র জানায়, হুমায়ুনের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে তুলকালাম হয়েছে আলিমুদ্দিনে।
প্রাথমিকভাবে, হুমায়ুনের সঙ্গে সিপিএমের আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বামফ্রন্টের ভাবমূর্তি ভোটারদের কাছে ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে মনে করছে শাখা স্তরের নেতা-কর্মীরা। তবে আইএসএফের নওশাদ হুমায়ুনের সঙ্গে আলাপের রাস্তা খোলা রেখেছেন।
সিপিএম ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত আসন সমঝোতা সম্পন্ন করতে চাইছে। আগামী ১৮ ও ১৯ ফেব্রুয়ারি রাজ্য কমিটির বৈঠকে সব কিছু চূড়ান্ত হবে বলে মনে করছে দল। এ সময়ে বামেরা শরিকদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকও করতে পারেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই জটিল পরিস্থিতি কেবল আসন বণ্টন নিয়ে নয়, বরং দলীয় ভাবমূর্তি ও ভোটার আস্থা রক্ষার সঙ্গেও জড়িত। বামফ্রন্টের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, ভোটারদের কাছে শৃঙ্খলিত, শক্তিশালী এবং সমন্বিত জোটের ছবি বজায় রাখা।




















