তেহরান: সকাল থেকেই মুহুর্মুহু আক্রমণে কেঁপে উঠেছে ইরান (Iran attack)। আমেরিকা এবং ইসরায়েল দফায় দফায় ইরানের বিভিন্ন জায়গায় আক্রমণ চালিয়েছে। এবার এই ক্রমণের বদলা নিল খামেনেই সরকার। তারা এবার ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের এরবিলে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে আক্রমণ চালিয়েছে। এই ঘাঁটি উত্তর ইরাকে আমেরিকা এবং জোটবাহিনীর একটি প্রধান কেন্দ্র, যেখানে প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা কার্যক্রম এবং লজিস্টিক সাপোর্ট চলে।
স্থানীয় সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে এবং আকাশে মিসাইল উড়তে দেখা গেছে। এই হামলা ইরানের প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে, কারণ এর কয়েক ঘণ্টা আগে আমেরিকা এবং ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের অভ্যন্তরে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে।প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় এক ভিডিওতে ঘোষণা করেছেন যে, আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে “বড় সামরিক অপারেশন” শুরু করেছে।
আরও দেখুন: ঘরোয়া ক্রিকেটে ইতিহাস, রঞ্জি ট্রফিতে চ্যাম্পিয়ন জম্মু-কাশ্মীর
তিনি দাবি করেছেন, ইরানের নিউক্লিয়ার প্রোগ্রাম এবং মিসাইল উন্নয়ন অব্যাহত রয়েছে, যা আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য হুমকি। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেছেন, এটি একটি “preemptive strike” যাতে ইরানের নিউক্লিয়ার সক্ষমতা ধ্বংস করা যায়। ইরানের রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের খবর এসেছে, ধোঁয়া উড়ছে আকাশে। ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা যথাযোগ্য উত্তর দেবে।
ইরানের এই প্রতিক্রিয়ায় এরবিল ছাড়াও গালফ অঞ্চলের অন্যান্য মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা হয়েছে। বাহরাইনের ইউএস ফিফথ ফ্লিট হেডকোয়ার্টার, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বেস এবং সৌদি আরবের কিছু স্থানে মিসাইল ও ড্রোন আক্রমণের খবর। কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের প্যাট্রিয়ট সিস্টেম একটি ইরানি মিসাইল ধ্বংস করেছে। বাহরাইন, কুয়েত, ইউএইতে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইরাকের পরিবহন মন্ত্রণালয় দেশের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে, এরবিল বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট স্থগিত। লুফথানসা টেল আভিভ, বৈরুত, আম্মান, এরবিল এবং তেহরানের ফ্লাইট মার্চ ৭ পর্যন্ত বাতিল করেছে।এরবিল ঘাঁটি ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থিত, যা সিভিলিয়ান বিমানবন্দরের সঙ্গে যুক্ত। এখানে আমেরিকান ও জোটবাহিনীর সেনা প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা শেয়ারিং এবং লজিস্টিক কাজ করে। ২০২০ সালে জেনারেল কাসেম সোলেইমানির হত্যার প্রতিশোধে ইরান এই ঘাঁটিতে মিসাইল ছুড়েছিল।
সাম্প্রতিক দিনগুলোয় উত্তেজনা বাড়ায় পশ্চিমা দেশগুলো (ফ্রান্স, জার্মানি, নরওয়ে ইত্যাদি) এরবিল থেকে সেনা সরিয়ে নিয়েছিল, কারণ তারা জানত ইরানের প্রতিশোধের লক্ষ্য হতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের প্রক্সি মিলিশিয়া (যেমন কাতাইব হিজবুল্লাহ) এরবিলকে লক্ষ্য করেছে আগেও, এবং এখন যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়লে কুর্দিস্তান অঞ্চল আবার হুমকির মুখে পড়বে।



















