কলকাতা: ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করল কংগ্রেস হাইকমান্ড। আজ দুপুরে দিল্লিতে বঙ্গ কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছেন এআইসিসি-র শীর্ষ নেতারা। এই বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় বামেদের সঙ্গে জোট। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে বাম-কংগ্রেস কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়লেও, আসন্ন নির্বাচনে সেই সমীকরণ বজায় থাকবে কি না, তা নিয়ে দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে টানাপোড়েন।
হাইকমান্ডের নির্দেশের অপেক্ষায় প্রদেশ নেতৃত্ব
বিগত বিধানসভা এবং লোকসভা ভোটে বামেদের সঙ্গে জোট বেঁধে তৃণমূল ও বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে কংগ্রেস। তবে ২০২৬-এর মহাযুদ্ধের আগে জোট নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেনি বিধান ভবন। প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে জানানো হয়েছে, তারা হাইকমান্ডের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আজকের বৈঠকেই দিল্লির নেতারা স্পষ্ট করে দেবেন যে বাংলায় বামেদের সঙ্গে আসন সমঝোতা হবে, না কি কংগ্রেস একক শক্তিতে ময়দানে নামবে।
বদলেছে সমীকরণ: শুভঙ্কর জমানায় অন্য হাওয়া West Bengal Left Congress alliance
প্রদেশ কংগ্রেসের অন্দরে বাম জোট নিয়ে বরাবরই দ্বিমত ছিল। সাবেক সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর জমানায় তাঁর তীব্র ‘তৃণমূল বিরোধী’ অবস্থানের কারণে বামেদের সঙ্গে জোট ছিল অবধারিত। কিন্তু দলের একটা বড় অংশ মনে করে, এই জোটের ফলে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি হয়েছে কংগ্রেসের। ভোটব্যাঙ্ক তলানিতে ঠেকেছে এবং দলের নিজস্ব সংগঠন দুর্বল হয়েছে।
শুভঙ্কর সরকার প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সুর বদলাতে শুরু করেছে। তিনি বারবার জোর দিচ্ছেন ‘দলীয় শক্তি বৃদ্ধি’র ওপর। তাঁর সাফ কথা, আগে প্রতিটি আসনে কংগ্রেসকে শক্তিশালী হতে হবে, জোটের আলোচনা তার পরে। শুভঙ্করের এই অবস্থানে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তিনি অধীর চৌধুরীর মতো ‘জোটের জন্য মরিয়া’ নন।
সিপিআইএম-এর খোঁচা ও বর্তমান পরিস্থিতি
এদিকে জোট নিয়ে কংগ্রেসের দীর্ঘসূত্রতায় বিরক্ত বাম শিবির। সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম একাধিকবার জানিয়েছেন, তাঁরা জোট চাইলেও কংগ্রেসের দিক থেকে কোনও সাড়া মিলছে না। এই নিয়ে কংগ্রেসকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি তিনি। পাল্টা জবাব দিয়েছেন কংগ্রেস নেতারাও। এই টানাপোড়েনের মাঝেই আজকের বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কী হতে পারে আজকের বৈঠকে?
সূত্রের খবর, আজকের বৈঠকে জেলাভিত্তিক সাংগঠনিক রিপোর্ট খতিয়ে দেখবে হাইকমান্ড। জোট করলে দলের আসন সংখ্যা কতটা বাড়বে আর একলা লড়লে সংগঠনের কতটা প্রসার হবে, এই দুই দিকই বিচার করা হবে। বিকেলের মধ্যেই বাংলার রাজনীতির এই জটিল সমীকরণ নিয়ে একটা স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।



















