নয়াদিল্লি: ভারতের মহাকাশ কর্মসূচিতে একের পর এক ধাক্কা লাগছে। পোলার স্যাটেলাইট লঞ্চ ভেহিকল (PSLV) যাকে ISRO-র ‘ওয়ার্কহর্স’ বলা হয় দু’বার টানা ব্যর্থ হয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে PSLV-C61 মিশন ব্যর্থ হয়, তারপর ২০২৬ সালের ১২ জানুয়ারি PSLV-C62-এর ব্যর্থতা। দু’টি মিশনেই তৃতীয় স্টেজে সমস্যা দেখা দিয়েছে প্রেশার লস ইন মোটর চেম্বার। এতে ১৬টি স্যাটেলাইট হারিয়ে গেছে, যার মধ্যে DRDO-র EOS-N1 (অন্বেষা) স্যাটেলাইট ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এটি হাইপারস্পেকট্রাল ইমেজিংয়ের মাধ্যমে সীমান্ত নজরদারি ও কৌশলগত তথ্য সংগ্রহ করার ক্ষমতা রাখে। এই টানা ব্যর্থতায় সুরক্ষা প্রতিষ্ঠানে অস্বস্তি ছড়িয়ে পড়ে। ISRO-র ফেলিয়ার অ্যানালিসিস কমিটির রিপোর্টে যদিও প্রযুক্তিগত কারণ দেখানো হয়েছে, কিন্তু সিকিউরিটি এজেন্সিগুলোর কাছে এটি যথেষ্ট সন্তোষজনক মনে হয়নি। ফলে সম্ভাব্য গুপ্তচরবৃত্তি বা অভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছিল না।
আরও দেখুন:
এই পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নির্দেশে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (NSA) অজিত দোভাল নিজে হস্তক্ষেপ করলেন। গত ২২-২৩ জানুয়ারি তিনি গোপনে তিরুবনন্তপুরমের বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টার (VSSC)-এ যান যেখানে PSLV-র নির্মাণ ও পরীক্ষা হয়। এই সফর ছিল অত্যন্ত গোপনীয়। দিল্লি থেকে ইন্ডিগো ফ্লাইটে এসে কোনও প্রোটোকল ছাড়াই, কোনও কনভয় ছাড়াই, মাত্র চারজন সাদা পোশাকের পুলিশ অফিসার সঙ্গে সোজা VSSC-তে পৌঁছান।
ISRO-র পক্ষ থেকে এই সাক্ষাৎপর্বের কোনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।দু’দিনে দোভাল ছ’টি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন VSSC-র ডিরেক্টর এ. রাজারাজন এবং অন্যান্য কী সায়েন্টিস্টদের সঙ্গে। বৈঠকে ফেলিয়ারের প্রযুক্তিগত দিক, সম্ভাব্য সিকিউরিটি লিক, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সবকিছু খতিয়ে দেখা হয়। সূত্রের খবর, ডোভালের প্রশ্ন ছিল খুবই তীক্ষ্ণ কেন দু’বার একই স্টেজে একই ধরনের সমস্যা?
কোনও অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে তথ্য ফাঁস হয়েছে কি না? কোনও বিদেশি শক্তির হাত আছে কি না? ISRO-র ফেলিয়ার রিপোর্ট যদিও সাবোটেজের সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছে, কিন্তু NSA-র স্তরে এই ধরনের গভীর তদন্ত হওয়া দেখে বোঝা যায় যে সরকার এটাকে শুধু প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে দেখছে না।বৈঠক শেষ করে দোভাল কন্যাকুমারীতে চলে যান।
তাঁর রিপোর্ট শীঘ্রই প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছবে বলে জানা যাচ্ছে। এর ভিত্তিতেই ইউনিয়ন মিনিস্টার জিতেন্দ্র সিং সাংবাদিকদের বলেছেন যে সাবোটেজের কোনও সম্ভাবনা নেই। তবে তদন্ত চলছে, এবং এক্সটার্নাল টিমও যুক্ত হয়েছে। ISRO-র বিশ্বাসযোগ্যতা এখনও অটুট কোনও ক্লায়েন্ট (বিদেশি স্যাটেলাইট কোম্পানি) মিশন বাতিল করেনি। কিন্তু PSLV-র পরবর্তী লঞ্চ জুন মাসের আগে হওয়ার সম্ভাবনা কম।




















