জম্মু: জম্মু-কাশ্মীরের উধমপুর জেলায় ভারতীয় সেনাবাহিনীর এক অভূতপূর্ব অভিযানে দু’জন (Udhampur)পাকিস্তানি জৈশ-ই-মোহাম্মদ (জেইএম) জঙ্গি নিহত হয়েছে। এই দু’জনের মধ্যে একজন ছিলেন জেইএম-এর শীর্ষ কমান্ডার রুবানি ওরফে আবু মাভিয়া, যিনি এলাকায় বহু বছর ধরে সক্রিয় ছিলেন। অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন কিয়া’। এটি একটা বড় সাফল্য, কারণ এই জঙ্গিরা সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা করছিল বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর।
পাকিস্তান সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের নির্দেশে পাঠানো এই জঙ্গিরা ভারতের অভ্যন্তরে ঢুকে নিরীহ মানুষের ওপর আক্রমণের ছক কষছিল।ঘটনাটি শুরু হয় ৩ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার বিকেলে। জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ভারতীয় সেনা, জেকেপি এবং সিআরপিএফ-এর যৌথ দল বাসন্তগড় এলাকার জাফর জঙ্গলে অভিযান শুরু করে। সেখানে একটা প্রাকৃতিক গুহায় দু’জন জঙ্গি লুকিয়ে ছিল। প্রথমে যোগাযোগ হলে তীব্র গুলিবিনিময় শুরু হয়।
একজন জঙ্গি আহত হয়ে গুহার ভিতরে ঢুকে পড়ে, সঙ্গীও তার সঙ্গে যোগ দেয়। সেনা কর্ডন করে রাতভর নজরদারি চালায়। ড্রোন, স্নিফার ডগ এবং শার্পশুটারদের ব্যবহার করে জঙ্গিদের পালানোর পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়।বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি দুপুরের দিকে সেনা চূড়ান্ত আক্রমণ শুরু করে। গুহার মুখে শক্তিশালী বিস্ফোরক (আইইডি) দিয়ে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। বিস্ফোরণের শব্দ দূর-দূরান্ত পর্যন্ত শোনা যায়।
গুহার প্রবেশপথ ধ্বংস করে সেনা ভিতরে ঢোকে। একজন জঙ্গির দেহ গুহার মুখে পড়ে ছিল, অন্যজনের দেহ গভীরে। দু’জনকেই নিশ্চিহ্ন করা হয়। অভিযান শেষ হয়েছে, এলাকা স্যানিটাইজ করা হচ্ছে। উদ্ধার হয়েছে একটা এম৪ কারবাইন এবং একটা একে-৪৭ রাইফেল যা পাকিস্তানি উৎস থেকে আসা বলে মনে করা হচ্ছে।
এই অভিযানে কোনও ভারতীয় জওয়ানের প্রাণহানি হয়নি, যদিও প্রথম দিনের গুলিবিনিময়ে কয়েকজন আহত হয়েছিলেন। সেনা বলছে, এটা একটা ক্যালিব্রেটেড ও সমন্বিত অভিযান ছিল, যাতে আন্তঃসংস্থা সমন্বয় ছিল অসাধারণ। জৈশ-ই-মোহাম্মদ পাকিস্তানের মাটি থেকে পরিচালিত হয়, এবং আসিম মুনিরের নেতৃত্বাধীন পাক সেনাবাহিনীর সমর্থন পায় বলে ভারত বারবার অভিযোগ করে আসছে।
এই দু’জন জঙ্গি সাধারণ নাগরিক, বিশেষ করে অমরনাথ যাত্রার আগে হামলার পরিকল্পনা করছিল বলে সন্দেহ। তাদের নির্মূল করে সেনা বড় ধরনের বিপর্যয় রুখেছে।এই সাফল্য জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানের এক নতুন অধ্যায়। গত কয়েক মাসে একের পর এক অভিযানে জৈশ-লস্করের অনেক কমান্ডার নিহত হয়েছে। কিন্তু এবার গুহায় লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের বিস্ফোরক দিয়ে প্রবেশপথ ধ্বংস করে নির্মূল করা এটা সেনার কৌশলগত দক্ষতার প্রমাণ। স্থানীয় মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে, কারণ এই এলাকায় জঙ্গিরা লুকিয়ে থেকে হামলা চালাত। সেনা বলছে, এলাকায় নজরদারি চলবে, যাতে আর কোনও অনুপ্রবেশ না ঘটে।




















