
হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং পশ্চিম এশিয়ার জটিল ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব আবারও স্পষ্টভাবে পড়ল আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। শুক্রবার অশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচের উপরও চাপ বাড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও হরমুজ প্রণালী আপাতত খোলা রয়েছে, তবুও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্থিতিশীল নয়। পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা কমার কোনও নিশ্চিত ইঙ্গিত এখনও পাওয়া যায়নি। তার উপর আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে ঘোষিত সাময়িক যুদ্ধবিরতি কতটা দীর্ঘস্থায়ী হবে, তা নিয়েও যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। এই অনিশ্চয়তাই মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ঊর্ধ্বগতির অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
শুক্রবারের বাজারদর অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচার্সের দাম বেড়েছে প্রায় ০.৮৭ শতাংশ। ফলে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়িয়েছে ৯৬.৭৫ ডলার। একই সঙ্গে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ফিউচার্সের দামও বৃদ্ধি পেয়েছে ১.০৬ শতাংশ, যার ফলে প্রতি ব্যারেলের মূল্য পৌঁছেছে ৯৮.৯১ ডলারে। অর্থাৎ দুই ক্ষেত্রেই তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে, যা বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পশ্চিম এশিয়ায় যদি পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হয়, তাহলে তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্বের অন্যতম বড় তেল পরিবহণ পথ হরমুজ প্রণালী, যার মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিভিন্ন দেশে পৌঁছায়। এই পথে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেও তার প্রভাব পড়ে গোটা বিশ্ববাজারে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক সংস্থা ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা দিতে শুরু করেছে। ব্রোকারেজ ফার্ম মারকোয়ারি জানিয়েছে, পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও তেলের দাম ৮৫ থেকে ৯০ ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে এই স্বস্তি খুব দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে। এপ্রিল মাসে যদি পশ্চিম এশিয়ায় নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়, তাহলে তেলের দাম ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যাওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশের সরকারও সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিকল্প ব্যবস্থা এবং কৌশল নিয়ে ভাবনা-চিন্তা শুরু হয়েছে। অন্যদিকে, বিনিয়োগকারীরাও এখন অত্যন্ত সতর্কভাবে বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন।

