বাংলাদেশে হিন্দু নিধনে প্রধানমন্ত্রীকে নীতির পাঠ দিলেন বিজেপি বিধায়ক

তেলেঙ্গানা: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ (Bangladesh)ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভারতের রাজনৈতিক মহল। নরসিংদীতে সংখ্যালঘু যুবক চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিককে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ সামনে আসার ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
bangladesh-hindu-killing-bjp-mla-raja-singh-reaction

তেলেঙ্গানা: বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ (Bangladesh)ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভারতের রাজনৈতিক মহল। নরসিংদীতে সংখ্যালঘু যুবক চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিককে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ সামনে আসার পর এই ইস্যুতে সরব হলেন তেলঙ্গানার গোশামহল কেন্দ্রের বিজেপি বিধায়ক টি রাজা সিং। এক বিবৃতিতে তিনি সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়ে বলেন, “বাংলাদেশে যে কোনও হিন্দু নির্যাতিত হলে, তার দায়িত্ব ভারতেরও।”

টি রাজা সিং দাবি করেন, “আজ ঢাকায় চঞ্চল চন্দ্রকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়েছে। আমি প্রধানমন্ত্রী মোদীকে অনুরোধ করছি, তাঁর শক্ত অবস্থান দেখানোর সময় এসেছে।” তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একসময় ভারতের অংশ ছিল এবং সেখানে বসবাসকারী প্রতিটি হিন্দুই ভারতেরই মানুষ। তাই তাঁদের জীবনরক্ষা করা প্রধানমন্ত্রীর নৈতিক কর্তব্য।

   

মহারাষ্ট্রকে সবুজ করে দেবেন এই নেত্রী! ইনি কি ওআইসির হিজাবি প্রধানমন্ত্রী ?

এই বক্তব্যেই থামেননি গোশামহলের বিধায়ক। আরও একধাপ এগিয়ে তিনি বলেন, “ভারত যদি ১৯৭১ সালে পাশে না দাঁড়াত, তাহলে বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে আলাদা হত না। এখন সময় এসেছে বাংলাদেশকে তার জায়গা দেখানোর।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রতি নরসিংদীতে চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিক নামে এক সংখ্যালঘু যুবককে ওয়ার্কশপের ভিতরে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, গভীর রাতে দুষ্কৃতীরা দোকানের শাটারের নীচে আগুন ধরিয়ে দেয়। অগ্নিদগ্ধ হয়ে মৃত্যু হয় চঞ্চলের। এই ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পরই ভারত ও বাংলাদেশের উভয় দেশেই ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

টি রাজা সিংয়ের বক্তব্য সামনে আসার পর বিজেপির একাংশ নেতা দাবি করেছেন, এটি শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর চলতে থাকা ধারাবাহিক নির্যাতনের অংশ। তাঁদের মতে, আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই বিষয়টি আরও জোরালোভাবে তোলা উচিত।

অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলির একাংশ এই মন্তব্যকে “উস্কানিমূলক” ও “কূটনৈতিকভাবে দায়িত্বজ্ঞানহীন” বলে আক্রমণ করেছে। তাঁদের দাবি, এমন মন্তব্য ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরাও মনে করছেন, সংখ্যালঘু নির্যাতনের মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে আন্তর্জাতিক আইন ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই পদক্ষেপ করা উচিত।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলির বক্তব্য, রাজনৈতিক বিতর্ক যাই হোক না কেন, মূল প্রশ্ন হল বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা। সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক হামলা, খুন ও সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগ উঠে আসছে। এই পরিস্থিতিতে ঢাকার অন্তর্বর্তী সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

এই প্রেক্ষাপটে টি রাজা সিংয়ের মন্তব্য বিজেপির কট্টর হিন্দুত্ববাদী অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে এটি আসন্ন লোকসভা ও রাজ্য নির্বাচনের আগে জাতীয়তাবাদী আবেগ উসকে দেওয়ার কৌশল বলেও অনেকে ব্যাখ্যা করছেন।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশে হিন্দু নিধনের অভিযোগ ঘিরে ভারতের রাজনীতিতে যে ঝড় উঠেছে, তা আগামী দিনে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলবে, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google