রহস্যজনক আততায়ীর হাতে ৭২ হুর পেল লস্কর কমান্ডার

ইসলামাবাদ: পাকিস্তানে লস্কর-ই-তৈয়বা (Lashkar)-এর এক শীর্ষ কমান্ডার আব্দুল গাফ্ফারের রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে। যা একদিকে যেমন জঙ্গি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আবার অনেকে বলেছেন কোনও ...

By Sudipta Biswas

Published:

Follow Us
lashkar-commander-mysterious-death-pakistan

ইসলামাবাদ: পাকিস্তানে লস্কর-ই-তৈয়বা (Lashkar)-এর এক শীর্ষ কমান্ডার আব্দুল গাফ্ফারের রহস্যজনক মৃত্যু ঘটেছে। যা একদিকে যেমন জঙ্গি সংগঠনের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও গভীর সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আবার অনেকে বলেছেন কোনও অজ্ঞাত আততায়ীর হাতে তার মৃত্যু হয়েছে।

খবর অনুযায়ী, তিনি সম্প্রতি এক আত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন, কিন্তু পথেই অজানা কারণে মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর কারণ এখনও অজানা, কোনো সরকারি বিবৃতি বা পুলিশ রিপোর্ট প্রকাশিত হয়নি।

   

এই ঘটনা সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে, বিশেষ করে ভারতীয় হ্যান্ডেলগুলোতে, যেখানে এটাকে LeT-এর অভ্যন্তরীণ লড়াই বা ‘ইউজ অ্যান্ড ডাম্প’ নীতির ফল বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে।আব্দুল গাফ্ফার লস্কর-ই-তৈয়বার একজন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডার ছিলেন, যিনি সংগঠনের অপারেশনাল কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতেন। সম্প্রতি তাঁকে হাফিজ সাঈদের ছেলের সঙ্গে একটি ছবিতে দেখা গিয়েছিল। যা LeT-এর শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতার প্রমাণ।

ফের ওপার বাংলায় নৃশংস ভাবে পিটিয়ে খুন হিন্দু ব্যাবসায়ী

হাফিজ সাঈদ, যিনি ২৬/১১ মুম্বই হামলার মাস্টারমাইন্ড হিসেবে পরিচিত এবং রাষ্ট্রসংঘের জঙ্গি তালিকায় রয়েছেন, এই মৃত্যুর খবরে পুরোপুরি হতচকিত বলে জানা গেছে। সূত্রের মতে, তিনি এই ঘটনায় গভীরভাবে বিচলিত, কারণ গাফ্ফার তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একজন ছিলেন।পাকিস্তানে জঙ্গি সংগঠনগুলোর মধ্যে এমন রহস্যজনক মৃত্যু নতুন নয়। গত কয়েক বছরে LeT-এর একাধিক শীর্ষ কমান্ডার ‘অজানা আক্রমণকারী’দের হাতে খুন হয়েছেন।

উদাহরণস্বরূপ, ২০২৫ সালের মার্চে আবু কাতাল (হাফিজ সাঈদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী) জেলুমে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান, যা LeT-এর অভ্যন্তরীণ কলহের ফল বলে মনে করা হয়। একইভাবে মে মাসে আবু সাইফুল্লাহ খালিদ (নেপাল মডিউলের প্রধান) সিন্ধ প্রদেশে অজানা আক্রমণকারীদের হাতে খুন হন। এই ধরনের ঘটনাগুলোকে প্রায়ই ‘অজানা গানম্যান’ বলে উল্লেখ করা হয়, যা পাকিস্তানি মিডিয়া ও নিরাপত্তা চক্রে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা RAW-এর কাজ বলে অভিযোগ করে।

যদিও কোনো প্রমাণ নেই।আব্দুল গাফ্ফারের মৃত্যু এই ধারাবাহিকতারই অংশ বলে মনে হচ্ছে। তিনি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে মারা যান, যা অনেককে মনে করিয়ে দিচ্ছে যে পাকিস্তানে সন্ত্রাসীরা কখনো ‘রিটায়ার’ করেন না তাদের নিজেদের ইকোসিস্টেমই নির্মূল করে। LeT-এর অভ্যন্তরে ক্ষমতার লড়াই, আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিবাদ বা বাইরের চাপ এসব কারণে এমন ঘটনা ঘটছে।

হাফিজ সাঈদের পরিবার ও সংগঠনের জন্য এটি বড় ধাক্কা, কারণ গাফ্ফারের মতো কমান্ডাররা সংগঠনের অপারেশনাল শক্তি ধরে রাখেন।ভারতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এই ঘটনাকে পাকিস্তানের ‘টেরর ফ্যাক্টরি’-র অভ্যন্তরীণ বিস্ফোরণের প্রমাণ বলছেন।

অপারেশন সিঁদুরের পর LeT-এর অনেক ক্যাম্প ধ্বংস হয়েছে, যা সংগঠনকে দুর্বল করেছে। এখন অভ্যন্তরীণ কলহ তাদের আরও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি, যা এই রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে।

ভিডিও নিউজ দেখুন

Sudipta Biswas

Sudipta Biswas is a senior correspondent at Kolkata24x7, covering national affairs, politics and breaking news.

Follow on Google